জনগণকে আরও সচেতন করে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৫ জানুয়ারি: ত্রিপুরায় সড়ক দুর্ঘটনার হার জাতীয় হারের দুর্ঘটনার চাইতে অনেক কম। কিন্তু তাতে আত্মতুষ্ট না হয়ে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে আরও সচেতন করে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতে হবে। আজ মহাকরণে পরিবহণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ন্যাশনাল রোড সেফটি মান্থ ২০২৫ এর এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাতে ও ভোরবেলায় এবং শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আগরতলা শহরে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার পাশে ফুটপাত বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানান, দুর্ঘটনায় পতিত মানুষের জীবন বাঁচাতে রাজ্যে আরও ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হবে। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী গুজরাট মডেল অনুসরণ করার জন্য আধিকারিকদের পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে জি.পি.এস. সিস্টেম, সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো সহ যানবাহনের গতি মাপার ব্যবস্থা করতে হবে। সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে দপ্তরকে আরও কঠোর মনোভাব নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর জানুয়ারি মাসকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা মুক্ত মাস রাখার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে এবং জনগণকে আরও সতর্ক করতে মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আজ এই সভায় পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ন্যাশনাল রোড সেফটি মান্থ কর্মসূচি রূপায়ণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত মানুষের সাহায্যের জন্য যে ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সেগুলি সঠিক সময়ে কাজে লাগাতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, পরিবহণ সচিব উত্তম কুমার চাকমা প্রমুখ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত অবহিত করেন জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট কমিশনার প্রদীপ সরকার, ট্রাফিকের এস.পি. কান্তা জাঙ্গির। সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকগণও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply