অসমের মোরিগাঁও জেলায় ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের সিসমিক ঝুঁকি ফের বাড়ল

গুয়াহাটি, ৫ জানুয়ারি : অসমের মোরিগাঁও জেলায় সোমবার সকালে ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সিসমিক ঝুঁকির বিষয়টি পুনরায় সামনে এনেছে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কম্পনের কারণে প্রস্ততির উপর নতুনভাবে জোর দিয়েছে।

জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস) জানায়, ভূমিকম্পটি সকাল ৪:১৭ মিনিটে ঘটেছিল এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ২৬.৩৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২.২৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, ৫০ কিলোমিটার গভীরে।

পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পে কোনো হতাহতের বা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটি মোরিগাঁও সহ অসমের অন্যান্য অংশে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়েছে এবং কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে যারা সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পন অনুভব করেন।

এনসিএস-এর বুলেটিন ভূমিকম্পটি নিশ্চিত করেছে এবং এটি সেই অঞ্চলে ঘটেছে যা পূর্বেই সিসমিক কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। অসম এবং বৃহত্তর উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে, যেখানে ভারতীয় ম্যান্টল এবং ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ব্যাপক ভূকম্পন ঘটে।

গবেষণা থেকে জানা যায়, এই তাত্ত্বিক গঠনগত কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে এবং এটি গুৱাহাটীসহ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অন্যান্য শহরকে বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে, অসমের কিছু অংশসহ গুৱাহাটী এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যদিও তেমন বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঐতিহাসিক রেকর্ডেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের ঘটনা পাওয়া যায়, যেমন ১৮৯৭ সালের বিধ্বংসী অসম ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল ৮-এর ওপর এবং এটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা এবং তার বাইরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের এত ঘন ঘন ঘটে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী অবকাঠামো এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে।

তারা আরও জানাচ্ছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নির্মাণবিধির শক্তিশালীকরণ, প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই এই ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply