News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • বিজেপি এডিসি শাসন করবে, ২০২৮ সালে আবার সরকার গঠন করবে: মুখ্যমন্ত্রী
Image

বিজেপি এডিসি শাসন করবে, ২০২৮ সালে আবার সরকার গঠন করবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৪ জানুয়ারি: প্রতারণার মাধ্যমে রাজনীতি করা যায় না। জনজাতি অংশের মানুষ বুঝতে পেরেছে যে রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি করতে পারে। জনজাতিদের উন্নয়নে যা যা করার দরকার সেটা করবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। আর স্ক্রিপ্ট (হরফ) নিয়ে আন্দোলন করার কোন প্রয়োজন নেই, নিজেরাই স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন।

                             আজ বড়মুড়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত মেগা যোগদান সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই সভা থেকে ১৮১ পরিবারের ৪৯৫ জন ভোটারকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সভায় অন্যতম বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে যাতে সভা না হয় সেজন্য জলের দাবিতে আন্দোলন করতে কোমলমতি কিছু মা বোনকে রাস্তায় নামানো হয়। এটা সবসময় ওরা করে থাকে। কিন্তু চালাকি দিয়ে মহৎ কাজ করা যায় না। ভারতীয় জনতা পার্টি শুধু ত্রিপুরা বা ভারতবর্ষে নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে একটা শক্তিশালী পার্টি। তাই আমি বলবো যে আপনারা এখনো ভুল করছেন, এখনো সময় আছে আপনারা এভাবে করে কোমলমতি জনজাতি ভাইবোনদের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করবেন না। ভারতীয় জনতা পার্টি জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নে যা যা দাবি রয়েছে সেগুলি বাস্তবায়ন করছে। আমাদের মাধ্যমে জনজাতিদের সমস্যাগুলি সমাধান করা হবে। জনজাতিদের উন্নয়নে যা যা করার দরকার সেটা করবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

  বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় অতি চালাকে গলায় দড়ি পড়ে। তাই বেশি চালাকি কিন্তু ভালো নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন জনজাতি অংশের মহিলারা ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিনতে পেরেছেন, বুঝতে পেরেছেন। মোদির উপর আস্থা, বিশ্বাস এসেছে তাদের। রাজ্যে এখন একের পর এক ন্যাশনাল হাইওয়ে (জাতীয় মহাসড়ক) হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আসার পর আমাদের হিরা মডেল দিয়েছেন। এরফলে জাতীয় সড়ক, ইন্টারনেট, রেলওয়ে, এয়ারওয়ের প্রভূত উন্নতি হয়েছে রাজ্যে। উন্নয়নের জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন সেটা প্রধানমন্ত্রী দিচ্ছেন। এরআগে আমরা অরণ্য রোদন, কুম্ভীরাশ্রু আমরা দেখেছি। তাই যারা বিভিন্নভাবে সুড়সুড়ি দেয়, ইস্যু খুঁজে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। আমি বারবার বলছি স্ক্রিপ্ট (হরফ) নিয়ে আন্দোলন করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনারা নিজেরাই স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন। এই স্ক্রিপ্ট নিয়ে বারবার কথা হয়েছে। তারপরও এনিয়ে কথা হচ্ছে। আপনারা বাংলা স্ক্রিপ্ট নেবেন না, তাহলে দেবনাগরী নেন। আপনি হিন্দিতে কথা বলেন, দেবনাগরীতে কথা বলেন। তবে স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে কেন অন্য কথা। সেই জায়গায় নিজেরা স্ক্রিপ্ট বানান। চাকমা জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ স্ক্রিপ্ট বানাতে পারলে আপনারা কেন পারবেন না? জনজাতিদের মধ্যে প্রচুর বিদ্ধান ব্যক্তি আছেন।

       মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলে জিএসডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ত্রিপুরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। আমরা প্রতিটি সেক্টরে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছি। আমরা নতুন ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি এবং এটা সম্ভব যখন জাতি ও জনজাতি বিজেপির উপর আস্থা রাখবে।

     মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে বিজেপি এডিসি-তে সরকার গঠন করবে এবং একইভাবে ২০২৮ সালে বিজেপি সরকার গঠন করবে – এতে কোন সন্দেহ নেই।
থানসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডাঃ সাহা বলেন যে থানসা মানে সবার ঐক্য, যা হল “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা প্রয়াস।” মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন শাসনামলে রাজ্য জুড়ে ব্যাপক সহিংসতা চালানোর জন্য সিপিএম-এর নিন্দা করেন। তিনি বলেন,
সিপিএমের সময়ে এটিটিএফ এবং এনএলএফটি জন্মগ্রহণ করেছিল। জাতি ও জনজাতির অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছিল। উত্তর পূর্বের অবস্থা ছিল করুণ। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কারণে এখন শান্তি বিরাজ করছে।

     এদিন যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যানী সাহা রায়, বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, এডিসি সদস্য সঞ্জীব রিয়াং, টাকারজলা মন্ডলের সভাপতি, সদর গ্রামীণ জেলার সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক, মান্দাই মন্ডলের সভাপতি অভিজিত দেববর্মা সহ বিভিন্ন স্তরের জনজাতি নেতৃত্ব।

Releated Posts

থানসা থানসা করে থানসার পেটে লাথি মারছে তিপ্রা মথা: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৯ এপ্রিল: থানসা থানসা করে থানসার পেটে লাথি মারছে তিপ্রা মথা পার্টি। জাতিগত সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করছে…

ByByReshmi Debnath Apr 9, 2026

মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে বিশ্রামগঞ্জে উত্তেজনা, ‘গো-ব্যাক’ স্লোগানে সরগরম এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশালগড়, ৯ এপ্রিল: মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিশ্রামগঞ্জে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সভার প্রাকমুহূর্তে তিপ্রা মথার…

ByByReshmi Debnath Apr 9, 2026

২৮টি আসনে বিজেপির একা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তে খুশি জনগণ: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৯ এপ্রিল: আজ বীরচন্দ্রনগর- কলসী কেন্দ্রে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী সঞ্জীব রিয়াংয়ের সমর্থনে কাঠালিয়া বাজারে আয়োজিত সুবিশাল জনসভায়…

ByByReshmi Debnath Apr 9, 2026

ধর্মনগর উপনির্বাচন: বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটের হার ৭০.০৯ শতাংশ

আগরতলা, ৯ এপ্রিল: উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৭০.০৯ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। এদিন…

ByByReshmi Debnath Apr 9, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top