সন্ধ্যারাতে যুবতীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পথ অবরোধ স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৩ জানুয়ারি: সন্ধ্যারাতে যুবতীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করলেন স্থানীয়রা।

সন্ধ্যারাতে এক যুবতীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে শনিবার সন্ধ্যায় টায়ার জ্বালিয়ে চুরাইবাড়ি–কদমতলা মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী।

ঘটনাটি ঘটে কদমতলা ব্লকের চুরাইবাড়ি থানাধীন পূর্ব চুরাইবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়, নির্যাতিতার বাড়ির সামনে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যাবেলায় ওই এলাকার এক মনিপুরি যুবতী গৃহশিক্ষিকার কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সদ্য বিবাহিত যুবক রাজ নন্দী তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

যুবতীর অভিযোগ, অভিযুক্ত আচমকাই তার পথরোধ করে কুপ্রস্তাব দেয় ও শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করে। যুবতী চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্যাতিতার পরিবার ঘটনার দিনই চুরাইবাড়ি থানায় অভিযুক্তের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের একাধিক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ—এই অভিযোগেই শনিবার পথ অবরোধে নামেন স্থানীয় মানুষজন।

অবরোধকারীদের দাবি, স্থানীয় পুলিশের অনিচ্ছা ও গাফিলতির কারণেই অভিযুক্ত এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তারা বলেন, পুলিশ নাকি নির্যাতিতার পরিবারকে জানিয়েছে যে অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব নয় এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।

এদিন মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষজনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন অংশের বাসিন্দারাও এই অবরোধে সামিল হয়ে পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। সংবাদ সংগ্রহের সময় পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। যদিও দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি অবরোধকারীদের।তাঁরা জানান, দাবি পূরণ না হলে লাগাতার আন্দোলন ও অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে।অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধের ফলে চুরাইবাড়ি–কদমতলা মূল সড়কের দু’পাশে শত শত ছোট-বড় যানবাহন আটকে পড়ে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, নিত্যযাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় মানুষজন।