জি র‍্যাম জি বিল পাশের প্রতিবাদে সংসদ চত্বরে তৃণমূলের ১২ ঘণ্টার ধর্না

নয়াদিল্লি, ১৯ ডিসেম্বর : বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল, যা জি র‍্যাম জি বিল নামে পরিচিত, যেভাবে সংসদের দুই কক্ষে পাশ করানো হয়েছে তার প্রতিবাদে সংসদ ভবন চত্বরে ১২ ঘণ্টার ধর্নায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা।

বুধবার গভীর রাত প্রায় ১টা থেকে পুরনো সংসদ ভবনের মূল গেটের সামনে এই ধর্না শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চলার কথা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিলটি পাশ করানো হয়েছে, যা সংসদীয় রীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

ধর্নাস্থল থেকে সংবাদমাধ্যমকে তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, এটি একটি ১২ ঘণ্টার ধর্না কর্মসূচি। আমরা মধ্যরাতে শুরু করেছি এবং দুপুরে শেষ করব। এই কালো আইন, ভিক্সিত ভারত জি র‍্যাম জি বিল, যেভাবে আনা হয়েছে তা এমজিএনরেগাকে দুর্বল করে এবং মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকারকে অসম্মান করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোদি সরকার সংসদে কোনও যথাযথ বিতর্ক ছাড়াই একের পর এক বিল জোর করে পাশ করাচ্ছে।
“এই সরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারকেও অপমান করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের উপর এটি এক গুরুতর আঘাত,” বলেন সাগরিকা ঘোষ।

তৃণমূল সাংসদ ডোলা সেনও একই সুরে বলেন, মহাত্মা গান্ধীর নামে চালু হওয়া এমজিএনরেগা প্রকল্প, যা প্রান্তিক মানুষকে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিয়েছিল, তা আজ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত না থাকা শাসকদলের সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কোনও সম্মান দেখাচ্ছেন না।

ডোলা সেন আরও অভিযোগ করেন, শাসক দল মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে মহিমান্বিত করছে এবং সরকার চলছে মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় মানসিকতায়। এই কারণেই বিরোধীরা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি জানান।

তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এই আইন এমজিএনরেগার ১০০ দিনের কাজের সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে কার্যত দুর্বল করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিলে ১২৫ দিনের কাজের কথা বলা হলেও, আসলে কতজন এই কাজ পাবেন তা ঠিক করবে কেন্দ্র। আগে এমজিএনরেগার প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ দিত কেন্দ্র সরকার। এখন তা কমে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে, বাকি টাকা রাজ্যগুলিকে বহন করতে হবে। এতে এমজিএনরেগার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

উল্লেখ্য, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার লোকসভায় কণ্ঠভোটে ভিক্সিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল, ২০২৫ পাশ হয়। এই বিলের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনরেগা) বাতিল করে নতুন কাঠামো চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের বিস্তারিত আলোচনা ও সংসদীয় পরীক্ষার দাবি উপেক্ষা করেই বিলটি পাশ করানো হয়। এরপর সংসদ মুলতবি করে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। সংসদে হট্টগোলের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিলটির পক্ষে সওয়াল করেন, যা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়।