আগরতলা, ১৮ ডিসেম্বর : আগামী ২ জানুয়ারি থেকে আগরতলার হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হতে চলেছে ৩৪তম আগরতলা বইমেলা। এই উপলক্ষে বুধবার আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে স্টিয়ারিং কমিটির একটি বর্ধিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বইমেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি, আয়োজনের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য নতুন সংযোজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, স্টেট কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সবুজ চক্রবর্তী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিরেক্টর ও আধিকারিকরা, বিভিন্ন সাব-কমিটির কনভেনার এবং একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে মূলত বইমেলার প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দর্শক ও প্রকাশকদের সুবিধার্থে কী কী পরিবর্তন বা নতুন পরিকল্পনা যুক্ত করা যেতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়। মেলার সময়সূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে আনার প্রস্তাব এলেও, আপাতত দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চালু রাখার সিদ্ধান্তেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মেয়র দীপক মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, আজকের আলোচনায় আমরা সার্বিকভাবে সন্তুষ্ট। বইমেলার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই মেলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কাজ এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আবার সাব-কমিটি বা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইরের রাজ্য থেকে খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব উঠেছে। যেহেতু বিষয়টি সরকারি স্তরের, তাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে থিম প্যাভিলিয়ন, মণ্ডপসজ্জা, অফিসারদের নামফলক এবং সামগ্রিক নকশা নিয়েও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মেয়রের কথায়, আগরতলা বইমেলা রাজ্যের একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় আয়োজন। প্রতিবছরই এই মেলায় নতুনত্ব থাকে। বই কেনাবেচার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিসম্মেলন, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বইমেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

