আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার উপস্থিতিতে আজ রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর এবং বন দপ্তরের সঙ্গে পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজ্যে বহুমুখী ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রসার এবং বন ও কৃষি ভিত্তিক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন বিষয়ে এই দুটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের পক্ষে অধিকর্তা ড. দীপক কুমার এবং বন দপ্তরের পক্ষে প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক আর কে সামাল পৃথক এই দুটি মউ-এ স্বাক্ষর করেন। পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের পক্ষে সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালাকৃষ্ণ মউ-এ স্বাক্ষর করেন। ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই মউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জী, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকগণ সহ পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
মউ স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নিউ ইন্ডিয়া’ গড়ার দৃষ্টিভঙ্গীকে পাথেয় করে রাজ্য সরকার ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ঈশ্বর প্রদত্ত আমাদের রাজ্যে প্রচুর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে। রাজ্য সরকার উন্নয়নের এই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলিকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরার উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ত্বরানিত করতে নিরন্তর কাজ করছে। বহিরাজ্যের বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে এবং দেশ বিদেশে ত্রিপুরার পরিচিতি আরও বাড়াতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস এই মূলমন্ত্রে সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এই মউ স্বাক্ষরের ফলে আগামীদিনে রাজ্যের উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্ট রাজ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের সহায়তায় আগামীদিনে ত্রিপুরা ‘জৈব রাজ্য’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।
মউ সাক্ষর অনুষ্ঠানে পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালাকৃষ্ণ ত্রিপুরার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলির সামগ্রিক উন্নয়নের সহায়তায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাজ্যে কৃষি, ধর্মীয় পর্যটন, তথ্য প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আগামীদিনে ত্রিপুরাকে সার্বিকভাবে একটি মডেল রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোতভাবে সহায়তা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
————-

