চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

আগরতলা, ১৩ ডিসেম্বর: চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতা রতি রঞ্জন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে। জনজাতি এলাকার মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই প্রতারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযুক্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার বাড়ি তৈবান্দাল শুকনাছড়া এলাকায়। জানা গেছে, এক সময় তিনি তিপরা মথার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। শাসক দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় জনজাতি এলাকার মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রাখতেন। সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই শাসকদলের বড় বড় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ।

এবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করলেন মোহনভোগ চন্দুল এলাকার বাসিন্দা অরুণ নোয়াতিয়া। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ছেলে রাকেশ নোয়াতিয়াকে ফুড দপ্তরে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে রতি রঞ্জন ত্রিপুরা ৫৫ হাজার টাকা নেন। পাশাপাশি গাড়ি ভাড়া বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ।

অরুণ নোয়াতিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও তাঁর ছেলের চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত শুধু তারিখের পর তারিখ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হন।

তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা শীঘ্রই তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করতে চলেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাকরি দেওয়ার নামে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে রতি রঞ্জন ত্রিপুরা অস্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠেছেন। বিজেপির বদনাম ও মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে সম্প্রতি তিনি তিপরা মথা দলে যোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নতুন দলের নাম ব্যবহার করেও তিনি একই ধরনের দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রতি রঞ্জন ত্রিপুরার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।