মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় অশান্ত তেলিয়ামুড়া

তেলিয়ামুড়া, ৮ ডিসেম্বর: তেলিয়ামুড়া রাজনগর এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। নিরাপত্তাহীনতার ভুগছেন রাজনগরবাসী। প্রশ্নের মুখে পড়েছে তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা।  রবিবার গভীর রাতে রাজনগরের টমটম চালক প্রীতম দাসের জীবন জীবিকার একমাত্র সম্বল—টমটমটি বাড়ির সামনে রাখা ছিল।

পরদিন সকালে অর্থাৎ আজ সোমবার দরজা খুলতেই চোখে পড়ে ধ্বংসস্তূপ—গায়েব দামি যন্ত্রাংশ, নিঃশেষ প্রীতমের রোজগারের ভরসা।স্থানীয়দের দাবি, “একটি সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতী চক্র রাতের অন্ধকারে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। শহরে টহল না থাকলে তো অপরাধীদের রমরমাই বাড়বে!”

প্রীতম দাস বলেন,“রোজগারের একমাত্র পথ এই টমটম। যন্ত্রাংশ ছাড়া চলবে কীভাবে? এখন সংসারই অনিশ্চিত হয়ে গেল।”এরই মধ্যে আরও বড় বিস্ফোরণ—চুরি মামলায় ধৃত পরিতোষ দেবনাথের থানার হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া। বৈদ্যুতিক ‘গ্রিফ’ চুরির অভিযোগে ধৃত বিশালগড়ের ওই যুবক রবিবার সকালের মধ্যেই উধাও। থানায় সেন্ট্রি’র দায়িত্বে ছিলেন এসপিও সুনিতা রুদ্র পাল ও পিন্টু সরকার। পালানোর ঘটনায় উঠেছে গুরুতর পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ। থানার ভেতরে এমন নিরাপত্তা ব্যর্থতা নজিরবিহীন বলেই দাবি এলাকাবাসীর।

এক স্থানীয় বাসিন্দার ক্ষোভ, “বাইরে চুরি বাড়ছে, আর ভেতরে ধৃত আসামিই পালিয়ে যাচ্ছে! তাহলে রক্ষা পাবে কারা? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”সচেতন নাগরিক সমাজের মত আরও তীব্র—“এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরি। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুনর্গঠিত করতে হবে।”তেলিয়ামুড়া থানার রাতের টহল নিয়ে আগেই উঠেছিল নানা অভিযোগ। পরপর দুটি ঘটনার পর সেই প্রশ্ন এখন আরও তীব্র, আরও তীক্ষ্ণ। রাজনগর ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের বুক থেকে আস্থা সরে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছে সন্দেহ ও আতঙ্ক।

শহর এখন একটাই প্রশ্ন করছে—“নিরাপত্তা দেবেন কারা? পুলিশের হাতেই যদি ফসকে যায় আইন, তাহলে সাধারণ মানুষ ভরসা খুঁজবে কোথায়?”

সচেতন নাগরিক সমাজ আরও সরব হয়ে দাবি তুলেছে—ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হোক এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠিত করা হোক।
তেলিয়ামুড়া থানার রাতের টহল নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর সেই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে। রাজনগরসহ আশপাশের এলাকায় মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।