কৈলাসহরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওরামের নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠক সম্পন্ন

কৈলাসহর, ২৬ নভেম্বর:
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওরামের নেতৃত্বে উনকোটি জেলার সার্কিট হাউজের শান্ত, সুশৃঙ্খল পরিবেশে বুধবার অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চস্তরের পর্যালোচনা বৈঠক। সভার নেতৃত্বে ছিলেন ভারত সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী জুয়েল ওরাম। উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, মন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক ভগবান দাস, আধিকারিক সুধাংশু দাস সহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তা।

সভা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়—এটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বিনিময়ের বৈঠক নয়, বরং জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির স্থায়ী উন্নয়নকে সামনে রেখে এক বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরির পর্যালোচনা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প উনকোটি জেলায় কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, কোথায় কাজের গতি বাড়ানো দরকার, কোন প্রকল্পের উপর আরও জোর দিতে হবে—সবকিছুই উঠে আসে আলোচনার টেবিলে।

অঞ্চলভিত্তিক জনজাতি উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয়জল, সড়ক সংযোগ, আবাসন, রোজগার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাস্তব পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেন দপ্তরের আধিকারিকরা। কোথাও কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে, আবার কিছু এলাকায় সমস্যা ও বিলম্বের কথা স্পষ্ট করেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী জুয়েল ওরাম আলোচনা চলাকালীন স্পষ্ট করে জানান, “ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নই আমাদের অগ্রাধিকার। কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নজরদারি করতেই এই ধরণের অঞ্চলভিত্তিক রিভিউ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরো জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি।

কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টা উনকোটির মতো জনজাতি অধ্যুষিত জেলাগুলিকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে।”দিনের আলোচনার শেষে সিদ্ধান্ত হয়—আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও দ্রুততর করতে এলাকাভিত্তিক বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করবে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন কিছু প্রকল্প প্রস্তাব আনার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়।উনকোটির সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এই রিভিউ মিটিং শেষ পর্যন্ত এক ছাদের নিচে কেন্দ্র ও রাজ্যের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তপোক্ত করে দিল। জনজাতি উন্নয়নের পথচলায় এটি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—এমনটাই মত প্রশাসনিক মহলের।