আগরতলা, ২৩ নভেম্বর : রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন পাহাড়ে রাজনৈতিক হিংসা বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়ে বলেন, “হিংসার পথ পরিত্যাগ করুন, হিংসা কখনও শেষ কথা নয়। মানুষের মুখে-মনে হাসি আনুন, দেখবেন এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই নেই।” সাম্প্রতিক সময়ে খুমলুং এলাকায় ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন, খুমলুং-এ গণ্ডগোল আগেও হয়েছে। কিন্তু সেটা কখনো রাজনৈতিক ছিল না। পাহাড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা অতীতে ছিল না— পুরোনো খবর ঘেটে দেখলেও মিলবে না। কিন্তু এখন কেন ঘটছে? মূলত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই কালচার এই সরকারের সঙ্গে রাজ্যে এসেছে। তিনি আরো বলেন, মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব ধারালো, তাই যা ঘটছে তা মানুষ ভুলবে না।
সম্প্রতি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক জানান, এমন মন্তব্য রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য শুভ ইঙ্গিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে খুমলুং ঘটনার জেরে পাহাড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর পেছনে সরকারের দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, বিরোধীদের অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নয় তা সরকারের অন্যতম জোট শরীকদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। তিনি বলেন,
বিরোধীদের অভিযোগ যদি অযৌক্তিক হয়, তাহলে সরকার পক্ষ থেকেই তার প্রতিক্রিয়া আসা উচিত। কিন্তু জোট শরীকই যদি বিরোধীদের কথাকে পরোক্ষে মান্যতা দেন, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়— সরকার কি সত্যিই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ?
এদিন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে বিধায়ক তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক নেতা অসুস্থ হলে তাদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, কতটা উন্নত হলো রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো? নেতারা যদি সরকারি হাসপাতালকে বিশ্বাস না করেন, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে করবে?”
এদিন সম্মেলনে তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রাজনীতি হলো মানুষের জন্য। তাই রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত সবার প্রথম দায়িত্ব।” সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান, পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে একযোগে উদ্যোগ নেওয়ার।

