জাতীয় প্রেস দিবস আজ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বপালন উদযাপিত

নয়াদিল্লি, ১৬ নভেম্বর : আজ, ১৬ই নভেম্বর, জাতীয় প্রেস দিবস পালন করা হচ্ছে, যা প্রতিবছর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে উদযাপিত হয়। এই দিনটি ১৯৬৬ সালে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে, প্রেস কাউন্সিল একটি স্বাধীন নৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছে, যা সাংবাদিকতার উচ্চমান বজায় রাখতে এবং সংবাদমাধ্যমকে বাইরের প্রভাব এবং হুমকি থেকে রক্ষা করতে নিবেদিত।

এ বছর, দিবসটির প্রতিপাদ্য “বাড়ানো মিথ্যা তথ্যের মধ্যে প্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা”। এটি সঠিক এবং নৈতিক প্রতিবেদনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে, প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মান বজায় রাখা, এবং মিডিয়ার সামনে আসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে কাজ করছে। জাতীয় প্রেস দিবস শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের অর্জন উদযাপন করে না, বরং এটি সংবাদমাধ্যমের উপর থাকা দায়িত্বও পুনরায় মনে করিয়ে দেয়। এটি একটি আরো অবহিত এবং স্বচ্ছ সমাজ নির্মাণে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, দায়িত্ব এবং শক্তি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

আজকের দিনে, নাগাল্যান্ডে কোহিমা প্রেস ক্লাব একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যেখানে স্থানীয় সাংবাদিক, মিডিয়া পেশাজীবী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়ে গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা উদযাপন করবেন।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেপিহু রিও এই উপলক্ষে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের ও মিডিয়া সদস্যদের গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অবহিত সমাজ গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করেছেন এবং স্বাধীনতা রক্ষায় সকলকে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আজ জাতীয় প্রেস দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেন, “স্বাধীন, নির্ভীক এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা জনসাধারণের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে, শাসন ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনও জাতীয় প্রেস দিবস উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, “গণতন্ত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীনদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে প্রেসকেই থাকতে হবে শক্তিশালী এবং স্বাধীন।” তিনি সাংবাদিকদের প্রশংসা করেন যারা কেন্দ্র সরকারের শাসনাধিকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসীভাবে প্রতিবাদ করছেন।

রাষ্ট্রীয় সংসদের বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খার্জে আজ জাতীয় প্রেস দিবস উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি একটি পোস্টে বলেন, “সংবাদমাধ্যমকে তার দায়িত্ব সাহসিকতা, সততা এবং স্বাধীনতার সাথে পালন করতে হবে, কোন ভয় বা পক্ষপাত ছাড়া।” খার্জে আরও বলেন, “একটি স্বাধীন প্রেস কখনোই সরকারের পক্ষের পক্ষপাতী নয়; এর কাজ হলো সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যকলাপের প্রশ্ন তোলা এবং তাদের জবাবদিহি করা, কারণ এটাই গণতন্ত্রের মূলসুর।”

তবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ পর্যন্ত জাতীয় প্রেস দিবস উপলক্ষে কোনো শুভেচ্ছা বা বার্তা প্রকাশ করেননি।

জাতীয় প্রেস দিবস সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সঠিক সাংবাদিকতা এবং গণতন্ত্রে তার অপরিহার্য ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার দিন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সংবাদমাধ্যম শুধু সমাজের দর্পণ নয়, বরং এটি জনগণের কণ্ঠস্বর, শাসন ব্যবস্থার প্রতি এক কঠোর ও দায়িত্বপূর্ণ সমালোচক, যা গণতন্ত্রকে জীবন্ত রাখে।