নয়াদিল্লি, ১১ নভেম্বর : দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার নিরাপত্তা ও তদন্ত সংস্থাগুলিকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনুন।
দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ অমিত শাহ লেখেন, দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ নিয়ে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। প্রত্যেক দোষীকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলেই আমাদের সংস্থাগুলির কঠোরতম পদক্ষেপের মুখোমুখি হবে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, এনআইএ মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তদন্তের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-কে দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকার ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে দেখছে, কারণ এনআইএ সাধারণত শুধুমাত্র সন্ত্রাস সম্পর্কিত মামলার তদন্ত করে। বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাতও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, শীর্ষ তদন্ত সংস্থাগুলি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে এবং তারা এই ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছবে। এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনআইএ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর ইউএপিএ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে এবং রাজধানীর একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের কারণ এখনও পরিষ্কার নয়, তবে তদন্তের দায়িত্ব ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে সারা রাত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন হলেন কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ও চিকিৎসক ড. উমর উন নবির পরিবারের সদস্য।
তদন্তে জানা গেছে, ড. উমর উন নবির সঙ্গে ফারিদাবাদ সন্ত্রাস মডিউলে ধৃত দুই কাশ্মীরি চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ওই মডিউল থেকে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালকেল্লায় বিস্ফোরিত আই২০ গাড়িটি ড. উমর নিজেই কিনেছিলেন।
তবে ফারিদাবাদ মডিউলের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁর পরিবারের তিনজন সদস্যকে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার কয়েল গ্রাম থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের বার্তায় স্পষ্ট, ভারত সরকারের কাছে এই ধরনের সন্ত্রাস বা ষড়যন্ত্রের কোনও স্থান নেই। প্রত্যেক অপরাধী তার পরিণতি ভোগ করবেই।

