ঢাকা, ৩০ অক্টোবর : গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের মধ্যে ঢাকা থেকে পালানোর পর শেখ হাসিনা আগস্ট ২০২৪ থেকে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। বিক্ষোভের জেরে গত বছর তাঁর ঢাকা প্রাসাদে হামলা চালানো হলে তিনি একটি হেলিকপ্টারে করে প্রাণে বেঁচে পালিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলে যান।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস। এই সরকার আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনা দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থান স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন হাসিনার বাবা এবং তিন ভাই নিহত হন, এবং তিনি ও তাঁর বোন বিদেশে ছিলেন।
শেখ হাসিনার নির্বাসিত জীবন বেশ শান্তিপূর্ণ হলেও তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অবশ্যই আমি বাড়ি ফিরে যেতে চাই, তবে যখন সরকার বৈধ হবে, সংবিধান বাস্তবায়িত হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা সঠিকভাবে বজায় থাকবে।”
সম্প্রতি, রয়টার্সের এক প্রতিবেদক দিল্লির ঐতিহাসিক লোধি উদ্যানে হাঁটতে দেখা গিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে। তিনি তার সাথে থাকা দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাঁটছিলেন, যাদেরকে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে শনাক্ত করা যায়। সাধারণ জনগণের সাথে তিনি নম্রভাবে অভিবাদন জানান, তবে অনেকেই তাকে চিনতে পারেননি।
পূর্বে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, শেখ হাসিনা দিল্লির লুটিয়েন্স বাঙ্গালো জোনের একটি নিরাপদ বাসভবনে অবস্থান করছেন, যা উচ্চ নিরাপত্তা বিশিষ্ট একটি এলাকা যেখানে অনেক সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বসবাস করেন। এই বাসস্থানের ব্যবস্থা ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোটি কোটি সমর্থক আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বর্জন করবে, কারণ শেখ হাসিনার দলকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসিনা তার সাক্ষাৎকারে বলেন, “দেশে যদি স্বাধীন, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হয়, তবে আমি গণতন্ত্র পুনঃস্থাপনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণই দেশের জন্য শান্তি আনবে। আমরা চাই, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, কারণ এই দলের সমর্থন ছাড়া কোনো নির্বাচনের বৈধতা থাকতে পারে না।”
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস বুধবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বলেন, “বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শক্তি আগামী নির্বাচনে বাধা দিতে চেষ্টা করবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।”
এসময় ইউনুস আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার হতে পারে, তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।”

