বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, তাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে জনগণকে বিচার করে অথচ মুখে বলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ : প্রদ্যোত

আগরতলা, ২৭ অক্টোবর : বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। তাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে জনগণকে বিচার করে অথচ মুখে বলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। আজ রবীন্দ্র শর্তবার্ষিকী ভবনে মথার যোগদান সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন তিপরা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো তথা এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেবর্বমণ। তাঁর আরও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে জনজাতিদের বিজেপিতে যোগদান করানো হচ্ছে। কিন্তু প্রদ্যোত কিশোর সস্তার রাজনীতি করেন না।

এদিন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বিজেপি, সিপিআইএম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তাঁর অভিযোগ, এই তিন দলই শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতি করে, জনগণের ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের কোনো চিন্তা নেই।

প্রদ্যোতের কথায় ,বিজেপি, সিপিআইএম ও কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা একবারও ভাবেন না ত্রিপুরার আগামী প্রজন্মের কী হবে। তাঁরা শুধু ক্ষমতা দখলের ফন্দি আঁটে, ভোটের সময় জনগণের দরজায় যায়। কিন্তু তিপ্রামথা তিপ্রাসাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলে প্রদ্যোত বলেন, বিজেপি ধর্মের নামে রাজনীতি করে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করে অথচ মুখে বলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। থানসা বললে সাম্প্রদায়িক, কিন্তু সবকা বিকাশ বললে একতা এ কেমন দ্বিচারিতা?, প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে৷ জনজাতিদের বিজেপিতে যোগদান করানো হচ্ছে। প্রদ্যোতের কথায়, যাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো চিন্তা নেই, এমন স্বার্থনেষী মানুষদের আমাদের দলে জায়গা নেই। আমি তিপ্রাসাদের উন্নয়নের জন্য সবসময় লড়াই করে যাচ্ছি।

বিজেপির ক্রমাগত যোগদান অভিযান নিয়েও তাঁর কটাক্ষ, যেভাবে বিজেপিতে প্রতিনিয়ত যোগদান চলছে তাতে মনে হচ্ছে আগামী দিনে জনজাতি জনসংখ্যা এক কোটিরও বেশি হয়ে যাবে। কারণ, যেখানে ৪ জন যোগদান করছেন সেখানে দিল্লিকে ৪০০ জন যোগদান করার তথ্য প্রদান করছে। এককথায়, প্রদেশ বিজেপি কেন্দ্রকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্বাচন জেতা যায় না।

সাম্প্রতিক বনধ প্রসঙ্গে প্রদ্যোত জানান, তিপরা মথা কোনদিন বনধকে সমর্থন দেয়নি। তাঁর ভাষায়, বনধ তো তিপরা মথা ডাকেনি। একজন এমএলএ ওই বনধে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু আমি কখনো সংবাদ মাধ্যমে বলিনি বনধকে সর্মথন করে আমি। আমি কংগ্রেসে থাকাকালীনও বনধ সমর্থন করিনি, কারণ আমি জানি বনধ হলে গরিব মানুষের কষ্ট হয়।

তাঁর দাবি, তিপ্রামথা আসার পর রাজ্যে কোথাও কোনো দাঙ্গা বা অশান্তি হয়নি।কারণ, আমি সস্তার রাজনীতি করি না, বলেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ।