নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর : ভারতের সীমান্তঘেঁষা সির ক্রিক অঞ্চলে বৃহৎ ত্রিসেনা মহড়া ‘ত্রিশূল’ শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তান তার আকাশসীমায় একাধিক বিমান চলাচলের পথ সীমিত করল। ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ভারতের আসন্ন সামরিক কার্যক্রমের প্রতি চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
ভারত ৩০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সির ক্রিক সীমান্তে এই বৃহৎ ত্রিসেবা মহড়া আয়োজনের জন্য নোটাম জারি করেছে। এর পরপরই পাকিস্তানও ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের জন্য নিজেদের মধ্য ও দক্ষিণ আকাশসীমায় একাধিক রুটে উড়ান সীমিত করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যদিও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি, বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো কোনো সামরিক মহড়া বা অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।
‘অপারেশন সিন্ধুর’ পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টা সামরিক মহড়া ও নোটাম জারি এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশই নিয়মিতভাবে আকাশসীমা সংরক্ষণ ও সতর্কতা জারি করে নিজেদের প্রস্তুতি প্রদর্শন করছে।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমন প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভারতের ‘ত্রিশূল’ মহড়ার জন্য নির্ধারিত আকাশসীমা প্রায় ২৮,০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। সাইমনের মতে, এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের সমন্বিত সামরিক মহড়া সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খুবই অসাধারণ এবং কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ কার্যক্ষমতা, আত্মনির্ভরতা (আত্মনির্ভর ভারত) এবং নবপ্রযুক্তির প্রয়োগ প্রদর্শন করা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ কমান্ডের সৈন্যরা এই মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। ক্রিক ও মরুভূমি অঞ্চলে আক্রমণাত্মক অভিযান, সৌরাষ্ট্র উপকূলে উভচর অভিযান এবং বহু-মাধ্যমে যৌথ কৌশলগত মহড়া পরিচালিত হবে।”
ভারতের এই মহড়া এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, “যদি পাকিস্তান সির ক্রিক অঞ্চলে কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে জবাব এমন হবে যা ইতিহাস ও ভূগোল—দুটোই বদলে দেবে।”
গুজরাট ও সিন্ধের মাঝখানে অবস্থিত ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সির ক্রিক একটি জনশূন্য ও জলাভূমিময় এলাকা। এর নিয়ন্ত্রণ আরব সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করে, ফলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, পাকিস্তান সম্প্রতি ওই এলাকায় সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ বাড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভারতের এই বৃহৎ মহড়া ইসলামাবাদের উদ্দেশে এক স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
অপারেশন সিন্ধুর সময় ভারতীয় বাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি ও ১১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান ভারতের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক।
বর্তমানে সির ক্রিক সীমান্তে ভারতের ত্রিশূল মহড়া শুধু এক সামরিক অনুশীলন নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা—যে ভারত যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

