৬জি যুগে ভারতের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন কানেক্টিভিটি ও ইনোভেশন সেন্টার উদ্বোধন

নতুন দিল্লি, ২৩ অক্টোবর :ভারত ৬জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারত ও যুক্তরাজ্য মিলে একটি নতুন “কানেক্টিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার” শুরু করেছে। ইউকে ইন ইন্ডিয়া’ এক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছে, “যুক্তরাজ্য ও ভারত ভবিষ্যতের ৬জি প্রযুক্তি নির্মাণের লক্ষ্যে যৌথভাবে নতুন কানেক্টিভিটি ও ইনোভেশন সেন্টার চালু করেছে।” এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশ দ্রুত, স্মার্ট ও সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক গঠনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে ঘোষিত এই প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ প্রায় ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড (২৫৫ কোটি টাকা)। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, “ইউকে-ইন্ডিয়া টেকনোলজি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ এবং ভিশন ২০৩৫-এর আওতায় এই কেন্দ্র দুই দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একত্র করবে, যাতে ডিজিটাল অ্যাক্সেস আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।”

এই চুক্তি মূলত টেলিকম সেক্টরের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করে তুলবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার ১২৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে মুম্বই সফর করেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ট্রেড, টেকনোলজি ও ইনোভেশন ক্ষেত্র নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই সফরের সময় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চারটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়—এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়া-ইউকে কানেক্টিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠা, এআই-এর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের সূচনা, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সাপ্লাই চেইন অবজারভেটরির ফেজ-২ চালু করা এবং আইআইটি (আইএসএম) ধানবাদে নতুন স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস গঠন। পাশাপাশি, সবুজ প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণে “ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ইন্ডাস্ট্রি গিল্ড” গঠনের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে—ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটি বেঙ্গালুরুতে ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ‘লেটার অব ইন্টেন্ট’-এ স্বাক্ষর করেছে এবং ইউনিভার্সিটি অব সারে গুজরাটের জিআইএফটি সিটি-তে ক্যাম্পাস খোলার অনুমোদন পেয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও তিনটি চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পুনর্গঠিত ইন্ডিয়া-ইউকে সিইও ফোরামের উদ্বোধন, যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিটি-র পুনর্গঠন, এবং ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপ ফান্ডে যৌথ বিনিয়োগ—যেখানে ব্রিটিশ সরকার ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া অংশীদার।

এছাড়াও, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও জলবায়ু ক্ষেত্রেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ক্যারিয়ার প্রোগ্রাম-এর তৃতীয় ধাপের সূচনা, অফশোর উইন্ড টাস্কফোর্স গঠন, এবং আইসিএমআর (ভারত) ও এনআইএইচআর (যুক্তরাজ্য)-এর মধ্যে স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতার জন্য ‘লেটার অব ইন্টেন্ট’ স্বাক্ষর।

এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাজ্য শুধু ৬জি প্রযুক্তির উন্নয়নে নয়, বরং এআই, সবুজ শক্তি, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করল, যা আগামী দশকে উভয় দেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে।
_____