আগরতলা, ২৩ অক্টোবর :
কেন্দ্র সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, জিএসটি হারে সাম্প্রতিক কাটছাঁটে ত্রিপুরার হ্যান্ডলুম, চা, রেশম উৎপাদন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে এবং এদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কর হ্রাসের ফলে রীসা ও পাচরা-রিগনাই পোশাক থেকে শুরু করে ‘ত্রিপুরা কুইন’ আনারসজাত পণ্য এবং রেশম শিল্প পর্যন্ত একাধিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মাধ্যমে আদিবাসী মহিলা, কারিগর ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষমতায়িত হচ্ছেন, পাশাপাশি মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি বৃদ্ধির পথও খুলে যাচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় এখন সাধারণ কাপড়ে জিএসটি ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এবং ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের সেলাই করা পোশাকগুলির করহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হয়েছে।
এই সুবিধা জিআই-ট্যাগ প্রাপ্ত রীসা ও পাচরা-রিগনাই পোশাকগুলিতেও প্রযোজ্য হবে, ফলে রাজ্যের প্রায় ১.৩ লক্ষ হ্যান্ডলুম পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন। কর কমায় এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় তাঁতিদের বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রীসা-ভিত্তিক সেলাই করা পোশাকে ৭ শতাংশ কর হ্রাস গ্রামীণ মহিলাদের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া, প্যাকেজড ও ইনস্ট্যান্ট চা-পাতায় জিএসটি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে ত্রিপুরার ৫৪টি চা-বাগান এবং প্রায় ২,৭৫৫ ক্ষুদ্র চা উৎপাদক লাভবান হবেন। এই পদক্ষেপে রাজ্যের চা রপ্তানি বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে আরও বৃদ্ধি পাবে।
ত্রিপুরার রেশম শিল্পে বর্তমানে ১৫,৫৫০ জন কৃষক যুক্ত। নতুন নিয়মে রেশম ও রেশমজাত পণ্যে জিএসটি ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যার ফলে কোকুন চাষ, রেশম উৎপাদন এবং ছোট রিলিং ইউনিটগুলির খরচ কমবে। এতে রেশম মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং শিল্পের প্রসার ঘটবে।
সরকার জানিয়েছে, ফল ও সবজির রস-ভিত্তিক খাদ্য পণ্যে ৭ শতাংশ কর হ্রাস রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতকে বিশেষ সুবিধা দেবে। এই আওতায় জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত ‘ত্রিপুরা কুইন’ আনারসজাত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২,৮৪৮টি খাদ্য ও কৃষি-প্রসেসিং ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ত্রিপুরা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন আনারস রপ্তানি করেছে — প্রধানত দুবাই, ওমান, কাতার ও বাংলাদেশে। এছাড়া অন্যান্য ভারতীয় রাজ্যেও প্রায় ১৫,০০০ মেট্রিক টন আনারস সরবরাহ করা হয়েছে।
কর চাপ হ্রাসের মাধ্যমে এই সংস্কার ত্রিপুরার ফল ও কৃষি খাতকে প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করছে, যা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।
______

