আগরতলা, ২২ অক্টোবর : শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে জোলাইবাড়ীর রামরাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। যদিও পুলিশের সদর দপ্তরের থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযোগ খন্ডিত করা হয়েছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুইশিক্ষকের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য মঙ্গলবার পথ অবরোধে সামিল হয় জোলাইবাড়ির রামরাই বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। পরবর্তী সময় একই দাবীতে আজ পুনরায় বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে আন্দোলনে সামিল হয় ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশ ধমকী দেয়। পুলিশের ধমকীকে উপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময় আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য বাইখোড়া থানার ওসি বিষ্ণু দাসের আদেশে ছাত্রছাত্রীদের উপর আক্রমণ চালায় বাইখোড়া থানার কর্তব্যরত এএসআই মরন বৈদ্য এমনটাই অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। এই লাঠিচার্জে প্রায় ১২ জনের অধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে রামরাইবাড়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গোটা ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ। পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বাইখোড়া থানার অন্তর্গত রামরাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশের বলপ্রয়োগে কিছু ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করে কয়েকটি সংবাদ ক্লিপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রচারিত হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশের তরফ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর কোন ধরনের বল প্রয়োগ করা হয়নি”।
এদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদেরই সঙ্গেই নয়, তাদের অভিভাবকের উপরেও চড়াও হয়েছে পুলিশ। সঠিক শিক্ষার দাবিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। পুলিশ যখন ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চড়াও হয় তখন ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে অভিভাবকরা। তখন পুলিশ অভিভাবকদের ওপরেও হাত তুলে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। ঘটনায় পুলিশের এহেনও ভূমিকায় ছি ছি রব উঠেছে সর্বত্র।

