প্রথমবার ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ওয়ার্ল্ড সি-ফুড কংগ্রেস ২০২৬, চেন্নাই হবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের মঞ্চ

চেন্নাই, ২৮ সেপ্টেম্বর — ভারতের সামুদ্রিক শিল্পের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে চেন্নাই, যেখানে ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্ববিখ্যাত ওয়ার্ল্ড সি-ফুড কংগ্রেস। প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হওয়া এই আন্তর্জাতিক কংগ্রেস এবার ভারতের মাটিতে বসছে, যা দেশীয় মৎস্য ও সামুদ্রিক পণ্য শিল্পের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কংগ্রেসটি যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে ভারতের মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ মৎস্য বিভাগ এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফিশ ইন্সপেক্টরস -এর উদ্যোগে। পিডিএ ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড এই ইভেন্টের হোস্ট হিসেবে থাকছে, যেখানে ন্যাশনাল ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, হায়দরাবাদ সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত থাকছে।

এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজনকে সফল করতে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও সংস্থা পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক, পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রক, মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, নীতি আয়োগ, সি-ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া, এবং আইসিএআর-সিআইবিএ, আইসিএআর-সিএমএফআরআই, ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট, এফএআইটিটি ও ইন্ডিয়ান মেরিন ইনগ্রেডিয়েন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রমুখ।

প্রযুক্তিগত অংশীদার হিসেবে থাকবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এফএও, ইউএনআইডিও এবং ওয়ার্ল্ডফিশ ইতিমধ্যেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও, একটি প্রাক-কংগ্রেস ইভেন্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির সামুদ্রিক পণ্য বাণিজ্যে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবে।

পিডিএ ভেঞ্চারস-এর চেয়ারম্যান প্রদীপ দেবাইয়া বলেন, “ভারতের জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। এই কংগ্রেস শুধু ভারতের সামুদ্রিক শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে না, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার দরজাও খুলে দেবে।”

ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাকোয়াকালচার মাছ উৎপাদক এবং ষষ্ঠ বৃহত্তম সামুদ্রিক পণ্য রফতানিকারক। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে, দেশটি ১.৭৮ মিলিয়ন টন সামুদ্রিক পণ্য রফতানি করেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০,৫২৩.৮৯ কোটি । সেইসঙ্গে, একই বছরে মোট মাছ উৎপাদন দাঁড়ায় ১৮.৪০ মিলিয়ন টন, যা এক রেকর্ড পরিমাণ।

এফএও-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক প্রাণীর পণ্যে বাণিজ্য ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছবে ১৮৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। পাশাপাশি শৈবালজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে পৌঁছবে ১৫ বিলিয়ন ডলারে।

কংগ্রেস চলাকালীন একটি বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড চেইন, প্যাকেজিং, টেস্টিং, বিশ্লেষণ ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। এই মেলাটি রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মূল কংগ্রেসে থাকবে প্লেনারি সেশন, প্যানেল আলোচনা, কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপনা এবং কর্মশালা। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে: পুষ্টি ও জীবিকায় সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ, প্রক্রিয়াকরণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এবং মৎস্য ও জলচাষের জন্য চক্রাকার অর্থনীতির মডেল।

গবেষক, শিল্পপতি, নীতিনির্ধারক ও উদ্ভাবকরা বর্তমানে টেকনিক্যাল সেশনের জন্য প্রবন্ধ জমা দিতে পারছেন, যেগুলি বাছাই হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

আইএএফআই তরুণ পেশাজীবীদের উৎসাহিত করতে পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং পিটার হাউগেট অ্যাওয়ার্ড-এর আয়োজন করছে।

আইএএফআই-এর প্রেসিডেন্ট ড. ইয়ান গোল্ডিং বলেন, “ওয়ার্ল্ড সি-ফুড কংগ্রেস সবসময় বিজ্ঞান, শিল্প ও নীতির মধ্যে একটি সেতুবন্ধনের কাজ করেছে। এবার কংগ্রেস ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ভারতের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে তুলে ধরবে এবং এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।”

ভারতের জন্য এটি শুধুমাত্র একটি সম্মান নয়, বরং একটি সুযোগ — বৈশ্বিক সামুদ্রিক শিল্পে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করতে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার।