ভারতের প্রতি হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের: “আমেরিকার সঙ্গে খেলতে হবে”, হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যে উত্তেজনা

নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর : ভারতের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাঝেই ফের হুমকির সুরে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *নিউজনেশন*-এ এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, “ভারতকে ঠিক করতে হবে”, এবং যদি তারা মার্কিন বাজারে পণ্য বিক্রি করতে চায়, তাহলে তাদের “প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খেলতে হবে”। একই সঙ্গে ব্রাজিল এবং সুইজারল্যান্ডের দিকেও আঙুল তুলে তিনি বলেন, এই দেশগুলোকে তাদের বাজার আরও উন্মুক্ত করতে হবে এবং আমেরিকার স্বার্থে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

লুটনিকের বক্তব্যে স্পষ্ট, মার্কিন প্রশাসন ভারতের বাণিজ্য নীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ, বিশেষ করে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে। এই কারণেই ভারতের পণ্যের ওপর বর্তমানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এছাড়াও, সম্প্রতি ভারতের ব্র্যান্ডেড ও পেটেন্টযুক্ত ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের জন্য বড় ধাক্কা। উল্লেখ্য, ভারতের ওষুধ কোম্পানিগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ আয় আসে মার্কিন বাজার থেকে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশল নিয়ে লুটনিক বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে চুক্তি করেন, প্রথম চুক্তিটাই সব সময় সবচেয়ে ভালো হয়। পরের চুক্তিগুলোতে শর্ত আরও কঠিন হয়।” তিনি আরও জানান, এখনও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা বাকি, যার মধ্যে ভারত ও ব্রাজিলকে “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই উত্তেজনার মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বাণিজ্য আলোচনা শুরু করেছে। ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জামিয়েসন গ্রিয়ার ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে এবং একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিনিধি দলটি মার্কিন ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গেও আলোচনা করে এবং ভারতে ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী বিদেশি সংস্থাগুলিকে আশ্বস্ত করে। বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি এই সফরে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা তুলে ধরা হয়, যা ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।