লতিফুর রহমান, ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর : পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে উত্তেজনার আবহ। এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে লাগাতার অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—শেষমেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি হল ১৪৪ ধারা।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং জনগণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই দুপুর ২টা থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও পৌরসভায় এবং বিকেল ৩টা থেকে গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাঁচ বা ততোধিক লোক জমায়েত, মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।”
গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়-সমতলে। ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকে টানা সড়ক অবরোধ চলছে। শনিবার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ ফেলে, ইট-কাঠ বসিয়ে অবরোধ গড়ে তোলা হয়। জেলা জুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা অচল, দূরপাল্লার বহু বাস আটকে পড়েছে।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুপুরে উত্তেজিত পাহাড়ি ও বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি। শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ। অবরোধকারীদের মুখপাত্র উক্যেনু মারমার অভিযোগ, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালাচ্ছি। কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা আমাদের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের দাবি, “দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও নিরাপত্তাবাহিনী একযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।” পর্যটনকেন্দ্র সাজেক-যাওয়া সড়ক বন্ধ। বহু নৈশকোচ, পণ্যবাহী ট্রাক, এমনকি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত অবরোধকারীদের রোষের মুখে পড়েছে। জেলার মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ।

