মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সিপিআইএম

আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর : মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলল সিপিআইএম। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিপিআইএমের প্রতিনিধি দল। এরপর বিকেলে আজ রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানান সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য মানিক দে।

তিনি জানান, নির্বাচন দপ্তর এসআইআর কার্যক্রমকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। সিপিআইএমের দাবি, ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম চিহ্নিত করা হচ্ছে, এমনকি ১৯৮৭ সালের ভিত্তি হিসাব ধরে এই কাজ চলছে।

মানিক দে বলেন, এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে জানানো হয় এটি এসআইআর নয়। কিন্তু পরে আবার বলা হয় এটি এসআইআরের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। এ প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, সর্বদলীয় বৈঠক না ডেকে একতরফাভাবে এসআইআরের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন দপ্তর, যা গণতান্ত্রিক নয়।

তিনি আরও বলেন, সিপিআইএমের দাবি অনুযায়ী অবিলম্বে এসআইআরের কার্যক্রম স্থগিত রেখে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। বৈঠকে গিয়ে সিপিআইএম তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। দলের অভিযোগ, শাসক বিজেপির নির্দেশেই এসআইআর করা হচ্ছে যাতে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধীদের সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া যায়।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক দে অভিযোগ করেন, জম্পুইজলা, অমরপুর, শান্তির বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন দপ্তরের সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সিপিআইএম নেতৃত্ব আক্রান্ত হয়েছেন। আহত নেতাদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়নি। তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে কার্যালয় খুলতেও দেওয়া হচ্ছে না, ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে।

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যে এক দলীয় শাসন কায়েম করা হচ্ছে, স্বৈরাচারী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া, প্রাক্তন বিধায়ক সুদন দাসসহ অন্যান্য সিপিআইএম নেতৃত্ব।