নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক অর্থায়ন এবং দেশীয় ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬৯,৭২৫ কোটি টাকার ব্যাপক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগ ভারতের সামুদ্রিক খাতকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থায়ন, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নীতিমালা সংস্কার।
এই প্যাকেজের আওতায় ২৪,৭৩৬ কোটি টাকার ‘শিপবিল্ডিং ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স স্কিম’ ৩১ মার্চ, ২০৩৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও, টেকসই প্রক্রিয়া সমর্থনের জন্য ৪,০০১ কোটি টাকার ‘শিপব্রেকিং ক্রেডিট নোট’ চালু করা হবে। প্রয়োগ তদারকির জন্য ‘ন্যাশনাল শিপবিল্ডিং মিশন’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘মেরিটাইম ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি নতুন তহবিল তৈরি করা হবে, যার মোট পরিমাণ ২৫,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ‘মেরিটাইম ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ হিসেবে ২০,০০০ কোটি টাকা থাকবে, যেখানে সরকারের অংশগ্রহণ ৪৯ শতাংশ থাকবে। এছাড়াও ৫,০০০ কোটি টাকার ‘ইন্টারেস্ট ইনসেনটিভাইজেশন ফান্ড’ গঠিত হবে, যা ঋণের খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ১৯,৯৮৯ কোটি টাকার ‘শিপবিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট স্কিম’ অনুমোদিত হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে বার্ষিক ৪.৫ মিলিয়ন গ্রস টন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় মেগা শিপবিল্ডিং ক্লাস্টার গঠন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ভারতীয় সামুদ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইন্ডিয়া শিপ টেকনোলজি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, প্রকল্পগুলির জন্য বীমা সহ ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই প্যাকেজের মাধ্যমে ৪.৫ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ আনুমানিক মুক্ত হবে, প্রায় ৩০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৪.৫ মিলিয়ন গ্রস টন অতিরিক্ত জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা গড়ে উঠবে।
ভারতের সামুদ্রিক খাত শতাব্দীর পুরনো বাণিজ্য ও নৌযাত্রার ঐতিহ্যের অধিকারী। দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্য ভলিউম ও ৭০ শতাংশ মূল্যে সামুদ্রিক পথে পরিবাহিত হয়। জাহাজ নির্মাণকে ‘ভারী প্রকৌশলের মা’ বলা হয়, যা কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

