১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেসকল প্রকল্পগুলি ঘোষণা করেছে তার পেছনে দূর রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে: কংগ্রেস

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ঘোষিত অধিকাংশ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আড়ালে গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে, আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলল প্রদেশ কংগ্রেস। আগরতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী জিএসটি পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে পাশ করায় জিএসটি আইন, যা স্বাধীন ভারতে “এক দেশ এক কর” নামে প্রচার চালানো হলেও আসলে তা ছিল “গব্বর সিং ট্যাক্স”। এতে দেশের গরিব, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্ষতি হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি , এই কর চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোষাগারে প্রায় ৫৫ লক্ষ কোটি টাকা জমা হয়েছে জনগণের রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে, অথচ সাম্প্রতিক ঘোষিত ছাড়ের পরিমাণ মাত্র ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা—যা গভীর ক্ষতের উপর সামান্য ব্যান্ডেজের সমান।
প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দীপাবলি “গিফট” ঘোষণা করে জিএসটি পুনর্বিন্যাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে সাধারণ মানুষ বিশেষ উপকৃত হবেন না। বরং এই সংস্কারের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে বলেই দাবি কংগ্রেসের।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৩৩টি বিরল রোগের ওষুধ থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করলেও তার দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ এসব ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি হয়। আবার, সাধারণ চিকিৎসা সামগ্রীর উপর কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও বাজারে বর্তমানে যেসব ওষুধ রয়েছে তাদের পুরনো দামের কী হবে, সে বিষয়েও সরকারের কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশ নেই।
স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে জিএসটি প্রত্যাহার নিয়েও প্রশ্ন তোলে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, বিমা কোম্পানিগুলি প্রিমিয়াম আদায় করলেও দাবি মেটাতে গড়িমসি করছে, ফলে গ্রাহকরা বাস্তবে কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, রাজ্যের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগাতার বেড়ে চলেছে। শর্ষের তেল দুই মাস আগে ছিল লিটার প্রতি ১৬০-১৬৫ টাকা, বর্তমানে ২০০ টাকা। মসুর ডাল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, চিনি ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, যদি জিএসটি সত্যিই জনস্বার্থমূলক হয়ে থাকে, তাহলে আজ এই সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল কেন?

কংগ্রেস নেতাদের দাবি, স্বয়ং নীতিন গড়কড়ি সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে দেশের দারিদ্র্যের হার ব্রিটিশ শাসনের চেয়েও বেড়ে গেছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বাড়ানোয়, দেশীয় কর্পোরেটদের সুবিধা দিতেই জিএসটি ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে কিনা, সেই নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে দল।

সাংবাদিক বৈঠকের শেষে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনকালে প্রমাণিত হয়েছে তিনি দেশের মাত্র এক শতাংশ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তিনি গোটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেননি। তাই ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক, শান্তিপ্রিয় ও সৎ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়—দেশের সর্বনাশ ডেকে আনা নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।