ইউপি সরকার কাস্টভিত্তিক রাজনৈতিক সমাবেশ, গাড়ির স্টিকার ও সাইনবোর্ডে নিষেধাজ্ঞা

আলাহাবাদ , 22 সেপ্টেম্বর : উত্তর প্রদেশ সরকার আলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যের পুলিশের নথি, সরকারি ফরম্যাট, যানবাহন এবং জনসাধারণের স্থানে কাস্টভিত্তিক উল্লেখ নিষিদ্ধ করার ব্যাপক নির্দেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে এফআইআর, গ্রেফতার স্মারক এবং অন্যান্য পুলিশি নথিতে কাস্টের উল্লেখ থাকবে না; ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য পিতামাতার নাম ব্যবহার করা হবে।

চিফ সেক্রেটারি দীপক কুমার সকল বিভাগের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুলিশ স্টেশনগুলোর নোটিশবোর্ড, যানবাহন ও সাইনবোর্ড থেকে অবিলম্বে কাস্টের চিহ্ন, স্লোগান এবং যেকোনো রেফারেন্স সরিয়ে ফেলা হবে। কাস্টভিত্তিক সমাবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুলিশকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে যেন এই নির্দেশের উলঙ্ঘন না ঘটে।

তবে, তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি অ্যাক্ট-এর আওতায় মামলা ক্ষেত্রে কাস্ট পরিচয় আইনগতভাবে অপরিহার্য হওয়ায় সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। এছাড়াও এসওপি ও পুলিশ ম্যানুয়ালে সংশোধনী আনা হবে, যাতে হাইকোর্টের নির্দেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়।

আলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে বলা হয়েছিল, FIR, গ্রেফতার স্মারক, পুলিশের নোটিশবোর্ডে কাস্টের উল্লেখ করা ‘আইডেন্টিটি প্রোফাইলিং’ এর সমান এবং এটি পক্ষপাতিত্ব বাড়িয়ে সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধ।

হোম ডিপার্টমেন্ট ২১ সেপ্টেম্বর ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে, যা সরাসরি আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে। এতে উল্লেখ রয়েছে, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেম (সিসিটিএনএস) থেকে ‘কাস্ট’ ফিল্ড অপসারণের জন্য রাজ্য এনসিআরবি-কে অনুরোধ করবে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশের ফরম্যাটে পিতামাতার পাশাপাশি মাতার নামও শনাক্তকরণের জন্য লিখতে হবে। পরিবর্তন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ডেটা এন্ট্রি স্টাফদের কাস্টের ফিল্ড খালি রাখতে বলা হয়েছে।

পুলিশ স্টেশনের নোটিশবোর্ড থেকে কাস্ট সংক্রান্ত সব তথ্য সরিয়ে ফেলতে হবে, গ্রেফতার ও তল্লাশির স্মারকে কাস্ট উল্লেখ করা যাবে না। যানবাহনে কাস্ট নির্দেশক স্টিকার বা স্লোগান থাকলে মোটা জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকবে।

অধিকন্তু, কাস্টের নামে কোনো শহর, কলোনি বা জেলা ‘জাগির’ হিসেবে ঘোষণা করা হলে সেই সাইনবোর্ডও সরিয়ে ফেলতে হবে। কাস্টভিত্তিক রাজনৈতিক সমাবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, কারণ এগুলো জনশান্তি বিঘ্নিত করে এবং জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করে বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাস্ট মহিমা অথবা হিংসাত্মক কনটেন্টের ওপর কড়া নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে আইটি রুলস, ২০২১-এর আওতায়।

এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ সরকার সামাজিক সাম্য ও সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায় নতুন নজির স্থাপন করেছে বলে অভিহিত করা হচ্ছে।