গয়ায় বিশ্ববিখ্যাত পিতৃপক্ষ মেলায় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে ‘পিণ্ড দান’ করলেন রাষ্ট্রপতি

গয়া, ২০ সেপ্টেম্বর: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনও বর্তমান রাষ্ট্রপতি গিয়ার বিশ্বখ্যাত পিতৃপক্ষ মেলায় অংশ নিয়ে পিণ্ড দান ও শ্রাদ্ধ কর্ম সম্পন্ন করলেন। শনিবার গয়ার বিষ্ণুপদ মন্দির এবং ফল্গু অক্ষয়বটে নিজের পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য এই পবিত্র আচার পালন করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

ওড়িশার ময়ূরগঞ্জ জেলার উপার বেদা গ্রামের বাসিন্দা রাষ্ট্রপতি মুর্মু, এই আচার সম্পন্ন করেন উপার বেদা গ্রামের বংশ পরম্পরাগত পাণ্ডা তথা পূর্বপুরুষের রেকর্ড রক্ষক রাজেশ লাল কাটারিয়ার তত্ত্বাবধানে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান, গয়ার জেলাশাসক শশাঙ্ক শুভঙ্কর, এসএসপি আনন্দ কুমার সহ একাধিক প্রশাসনিক ও ধর্মীয় আধিকারিক।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে গয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গয়া বিমানবন্দর থেকে বিষ্ণুপদ মন্দির পর্যন্ত পুরো রুটে ছিল কড়া নিরাপত্তা, যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি।

গয়া বিমানবন্দর থেকে ডোবী-গয়া মূল রাস্তা, গেট নং ৫ বাইপাস, ঘুঘরি তাড় বাইপাস, নারায়ণী সেতু এবং বাঙালি আশ্রম হয়ে বিষ্ণুপদ মন্দির। ফিরতি যাত্রায়ও একই রুট ব্যবহার করা হয়।

এই উপলক্ষে ডোমুহান থেকে সিকারিয়া মোড়, গেট নং ৫ থেকে সিটি পাবলিক স্কুল, চাঁদ চৌরাস্তা ক্রসিং, বাঙালি আশ্রম, এবং ঘুঘরি তাড় বাইপাস পর্যন্ত সব রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। সর্বত্র ছিল ব্যারিকেড এবং জনগণের জন্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থাও চালু করা হয়।

চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল, রাষ্ট্রপতি মুর্মু অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রাচীন বিধি মেনে পিণ্ড দান করেন। এদিন তার সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

প্রতি বছর পিতৃপক্ষের এই সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত গয়ায় এসে পূর্বপুরুষদের শান্তির জন্য পিণ্ড দান করেন। রাষ্ট্রপতির এই অংশগ্রহণ শুধু এই বছরের মেলার আধ্যাত্মিক গুরুত্বই বাড়িয়ে দিল না, একই সঙ্গে জাতীয় স্তরে গয়ার ধর্মীয় ঐতিহ্যকেও এক গর্বের স্থানে পৌঁছে দিল।