শিলং, ১৯ সেপ্টেম্বর: মেঘালয়ের রি-ভোই জেলায় অবস্থিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মেঘালয় (ইউএসটিএম) প্রায় ২৫ হেক্টর বনভূমি বেআইনিভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে, এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটির রিপোর্টে। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১৫০.৩৫ কোটি টাকার জরিমানা আরোপের সুপারিশ করেছে।
মেঘালয়ের রি-ভোই জেলায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মেঘালয় (ইউএসটিএম)- এর বিরুদ্ধে গুরুতর পরিবেশ বিধ্বংসী অভিযোগ তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি । তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রায় ২৫ হেক্টর বনভূমি দখল করে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩.৬২ হেক্টরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ইতিমধ্যেই নির্মিত হয়েছে এবং আরও ৭.৬৪ হেক্টর জমিতে মেডিকেল কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই জমিগুলি সবই সংরক্ষিত বনভূমি, অথচ কোনও বন দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে। CEC সুপারিশ করেছে, এক বছরের মধ্যে এই দখল করা জমি বনভূমি হিসেবে পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং জরিমানার টাকা ব্যবহার করে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলে সেখানে পুনরায় বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সাইটটিতে ব্যাপক ও বেপরোয়া পরিবেশ ধ্বংস ঘটেছে। ফলে, পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রি-ভোই জেলায় সব ধরনের খনন, পাথর ভাঙা এবং কোয়ারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছিলেন যে, ইউএসটিএম-এর বেআইনি নির্মাণই গুয়াহাটিতে আকস্মিক বন্যার অন্যতম কারণ। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে, পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সিইসি-এর রিপোর্ট সেই দাবিরই পরোক্ষ সমর্থন দেয়।
রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ইউএসটিএম -কে কেন্দ্র করে এমন একটি পরিবেশবিধ্বংসী প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৫০.৩৫ কোটি টাকার জরিমানা ও নির্মাণ ভাঙার সুপারিশ ঘিরে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সে দিকে এখন তাকিয়ে গোটা দেশ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বার্তা স্পষ্ট — পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে আর কোনও আপস নয়। 🌳

