ব্রাসেলস, ১৮ সেপ্টেম্বর: বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি নতুন কৌশলগত এজেন্ডা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন ও হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ। ‘নতুন কৌশলগত ইইউ–ভারত এজেন্ডা’ শীর্ষক এই যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, “এখনই সময় নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার। আমাদের নতুন ইইউ–ভারত কৌশল এই অংশীদারিত্বকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাবে – বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিভা বিনিময়, সবুজ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনে একসঙ্গে কাজ করব।” তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট চূড়ান্ত করার জন্য ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নতুন কৌশলগত এজেন্ডায় পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি। এতে জোর দেওয়া হয়েছে সাপ্লাই চেইন মজবুত করা, উদীয়মান প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব, নবায়নযোগ্য শক্তি ও গ্রিন হাইড্রোজেনে সহযোগিতা এবং শ্রেণীবদ্ধ তথ্য ভাগাভাগির জন্য ‘সিকিউরিটি অব ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আলোচনা শুরুর উপর।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একে “ যৌথ অঙ্গীকার, লক্ষ্য ও দায়িত্ব” হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভন ডার লায়েনের সঙ্গে ফোনালাপে মোদী ইইউ’র এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ফ্রি ট্রেড চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ২০২৬ সালে পরবর্তী ইইউ-ভারত সম্মেলনের জন্য ভারতে আমন্ত্রণও জানান।
উভয় নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফোনালাপের সময় ভন ডার লায়েন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানান।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ ইউরোপীয় কমিশন প্রধান বলেন, “আমরা যখন ইইউ-ভারতের নতুন কৌশলগত এজেন্ডা ঘোষণা করলাম, তখন আমি নরেন্দ্র মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আনন্দিত। আমি আবার ভারত সফরের অপেক্ষায় আছি এবং আমাদের পার্টনারশিপে নতুন অধ্যায় সূচনার প্রত্যাশায় আছি।” জবাবে মোদী টুইট করে বলেন, “নতুন কৌশলগত ইইউ-ভারত এজেন্ডা নিয়ে আমি আনন্দিত। ভারত এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ কৌশলগত এজেন্ডা ইইউ–ভারত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই অংশীদারকে কাছাকাছি নিয়ে আসবে।

