বারাণসী, ১২ সেপ্টেম্বর: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার বারাণসীতে তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানালেন। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীচন্দ্র রামগুলাম-এর সঙ্গে এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো বারাণসীর হোটেল তাজ-এ।
দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয় উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বিভিন্ন খাতে দক্ষতা গঠনের বিষয়ে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শক্তি, পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো এবং ব্লু ইকোনমি-র মতো নতুন খাতও আলোচ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চলতি বছরের মার্চে নরেন্দ্র মোদির মরিশাস সফরের সময় দুই দেশ নিজেদের সম্পর্ককে “উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্ব” পর্যায়ে উন্নীত করে। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠককে সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বারাণসীতে মোদির আগমনে শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল ১১:৩০ নাগাদ তাঁর কনভয় শহরে প্রবেশ করে। পথে ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও “হার হার মহাদেব” স্লোগানে মুখরিত হয় চারপাশ। সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা মোদিকে স্বাগত জানাতে পথে সার বেঁধে দাঁড়ান, কেউ কেউ মরিশাসের জাতীয় পতাকাও বহন করেন দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে।
বাবতপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অন্যদিকে, একদিন আগেই বারাণসী পৌঁছানো নবীচন্দ্র রামগুলামকে স্বাগত জানান রাজ্যপাল ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ খন্না।
রামগুলামের সফরসূচিতে রয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির অংশগ্রহণ এবং শুক্রবার কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পূজা। যদিও মোদির আগেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (২০১৮) এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে (২০২২)-কে বারাণসীতে স্বাগত জানানো হয়েছে, তবে এই প্রথম কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো এই কেন্দ্রে। বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে বারাণসীর জন্য এক ‘রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহরজুড়ে সাজানো হয়েছে স্বাগত ব্যানার ও হোর্ডিং, যেগুলিতে রামগুলামকে স্বাগত ও দুধজাত পণ্যে জিএসটি হ্রাসের জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই সফরটি মোদির ২০১৪ সাল থেকে বারাণসীতে ৫২তম সফর, যা তাঁর এই কেন্দ্রের প্রতি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-রামগুলামের এই বৈঠক ভারত-মরিশাস সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে নতুন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্ভাবনা বিস্তৃত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং মরিশাসের টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

