নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর: নতুন জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবে ই২০ পেট্রোল চালু করা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি “পেইড রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন” সোশ্যাল মিডিয়ায় চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স -এর ৬৫তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়কড়ি বলেন, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ই২০ পেট্রোল নিয়ে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, ই২০ পেট্রোল নিয়ে প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট এই প্রকল্পের বৈধতা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অর্থপ্রাপ্ত ক্যাম্পেইন চলছে। জনগণকে অনুরোধ করব, এর মধ্যে না জড়িয়ে প্রকৃত তথ্যের উপর নির্ভর করুন।”
সম্প্রতি বহু গাড়ি মালিক অভিযোগ করেছেন, ই২০ পেট্রোল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং বিশেষ করে ২০২৩ সালের পূর্ববর্তী মডেলগুলিতে ইঞ্জিনের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। কিছু সার্ভিস সেন্টার ও বিশেষজ্ঞরা এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে গড়কড়ি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। গত মাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কেউ যদি একটি প্রমাণ দেখাতে পারেন যে ই২০ পেট্রোল কোনো গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এখনো পর্যন্ত এআরএআই বা সিয়াম-এর পক্ষ থেকে এমন কোনো নিশ্চিত অভিযোগ আসেনি।
সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলাকে খারিজ করেছে, যেখানে ই২০ পেট্রোল রোলআউট বন্ধ করে ইথানল-মুক্ত পেট্রোল বাজারে রাখার দাবি তোলা হয়েছিল। আদালতের এই রায় সরকারের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গড়কড়ি বলেন, ই২০ পেট্রোল শুধু পরিবেশ রক্ষার দিক থেকে নয়, কৃষকদের জন্যও এটি লাভজনক। তিনি জানান, ভুট্টা থেকে ইথানল উৎপাদনের সিদ্ধান্তের পর উত্তরপ্রদেশ, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভুট্টার চাষ তিনগুণ বেড়েছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি খাতের বৈচিত্র্যকরণ সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, এই জ্বালানি নীতি ভারতের তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করবে।
পরিশেষে, তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন—যাতে পুরনো গাড়ি স্ক্র্যাপ করার পর নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জিএসটি ছাড় দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, অনুমোদিত স্ক্র্যাপিং সেন্টারে গাড়ি জমা দিলে নতুন গাড়ি কেনায় করছাড় দেওয়া হোক, যাতে পরিষ্কার জ্বালানি ও যানবাহনের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।” সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ই২০ পেট্রোলের মাধ্যমে দেশে স্বচ্ছ জ্বালানি, কৃষক কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ সম্ভব।

