নয়াদিল্লি/পুনে, ৪ সেপ্টেম্বর : ধর্ষণের অভিযোগে জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা আশিষ কাপুরকে পুনে থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিল্লিতে এক গৃহভোজ পার্টিতে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে অভিনেতার বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশের উত্তর জেলার ডিসিপি রাজা বান্তিয়া জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয় এবং তদন্তে নেমে কাপুরের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়। পরে জানা যায়, তিনি গোয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে পুনে যান। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২৪ বছর বয়সী অভিযোগকারী মহিলা দিল্লির পাঞ্জাবি বাগ এলাকার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তিনি অভিযোগ করেন, আগস্ট মাসের শুরুর দিকে দিল্লিতে এক পার্টিতে তাঁকে মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে গণধর্ষণ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কাপুর, পার্টির আয়োজক তাঁর বন্ধু, এবং দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং এক মহিলা তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে এবং তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
তবে পরে অভিযোগকারিণী তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করেন এবং জানান, শুধুমাত্র আশিষ কাপুরই তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি একটি গণধর্ষণের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও এখন একক ধর্ষণের মামলায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১১ই আগস্ট আশিষ কাপুর, তাঁর বন্ধু, বন্ধুর স্ত্রী এবং দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়। ১৮ই আগস্ট অভিযোগকারিণী পুনরায় বিবৃতি দেন, যেখানে উল্লেখ করেন কাপুর এবং তাঁর বন্ধুই তাঁকে ধর্ষণ করেছেন, এবং সেই মহিলাই তাঁকে মারধর করেন।
২১শে আগস্ট কাপুরের বন্ধু এবং তাঁর স্ত্রী জামিনের আবেদন করেন এবং আদালত তাঁদের অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করে। তবে শুনানির সময় অভিযোগকারিণী বন্ধুর নাম তাঁর বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত করেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পার্টির সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, কাপুর ও অভিযোগকারী একসাথে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং অনেকক্ষণ ধরে বের হননি। এরপর অন্যান্য অতিথিরা ও আয়োজক ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং তা পার্টির গেট পর্যন্ত গড়ায়। পরে ওই বন্ধুর স্ত্রী PCR নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ধারায় মামলা চলছে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী ভিডিও ফুটেজ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তদন্ত এখনও চলছে।

