আগরতলা, ৩০ আগস্ট : সংবিধান স্বীকৃত ধ্রুপদী ভাষা বাংলা ভাষাকে অপমানের প্রতিবাদে এবং বাঙালীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবীতে আজ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও জনসভার আয়োজন করেছে আমরা বাঙালি।
এদিন আমারা বাঙালী দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, রাজ্য কার্যালয়ের সামনে থেকে ভারতের ভূমিপুত্র স্বাধীনতার রূপকার বাঙালীকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী রোহিঙ্গা অপবাদ দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও সংবিধান স্বীকৃত ধ্রুপদী ভাষা বাংলা ভাষাকে অপমান এর প্রতিবাদে এবং বাঙালীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবীতে আজকের বিক্ষোভ মিছিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয় আগরতলা শহরে।
বাঙালী দলের নেতৃত্বরা বলেন যে পরাধীন ভারতকে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন করার জন্য বাংলা থেকেই প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় এবং কালক্রমে তা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।আর তখন থেকেই অবিভক্ত বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা করে যদিও বাংলার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
সচতুর ইংরেজ বঙ্গভঙ্গ রদ করলেও ১৯১২ সালের দিকে বাংলার ধানবাদ সিংভূম মানভূম জেলা বিহারের সঙ্গে জুড়ে দেয়। আবার বালেশ্বর ময়ূরভন্জ ইত্যাদি এলাকা উড়িষ্যার সাথে জুড়ে দেয়। এরপর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন কলকাতা থেকে। বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন ও নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইংরেজদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে নেতাজী যখন আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে মণিপুর পর্যন্ত অগ্ৰসর হয়েছিল তখন কংগ্রেসের নেতৃত্ব, কমিউনিস্ট নেতৃত্ব, মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ ও আর এস এস সহ হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বরা যদি সেদিন নেতাজী কে পূর্ণ সহযোগিতা করতো তাহলে কি দেশভাগ হতো। কিন্তু সেদিন কংগ্রেস কমিউনিস্ট মুসলিম লীগ হিন্দু মহাসভা ও আর এস এস সহ প্রতিটি দলের নেতৃত্বরা পরোক্ষ অথবা প্রত্যক্ষ ভাবে ইংরেজদের সহযোগিতা করেছে।
নেতাজীতো চেয়েছিলেন ইংরেজদের হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করে এক স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করতে।এটা কি নেতাজীর অপরাধ ছিল। নেতাজীর কাছে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান জৈন পার্শী শিখ পাঠান গোর্খা সব ছিল সমান।সব ধর্মের মানুষ তাকে মনে প্রাণে ভালবাসত। অথচ নেতাজীকে সমর্থন করলে আফগানিস্তান পাকিস্তান বালুচিস্তান সম্পূর্ণ কাশ্মীর সিয়াচেন বর্তমান বাংলাদেশ সহ পুরোটা নিয়ে হতো অখন্ড ভারতবর্ষ।যে স্বাধীনতার জন্য এই দেশের বিপ্লবীরা নিজেদের মূল্যবান জীবন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য দিয়েছিলেন। অথচ যারা আজ অখন্ড পূজন দিবস পালন করে আমাদের ব্রেইনকে ওয়াশ করছে আমরা কেন মুসলিমের তাড়া খেয়ে চলে আসলাম। অথচ তারাই প্রথম ১৯২৫ সালে নাগপুরে আর এস এসের সৃষ্টি করে হিন্দু হিন্দি হিন্দুস্থান বানানোর স্বপ্নে কাজ শুরু করে।
এর বারো বছর পর মুসলিমরাও অনুভব করে তাদের জন্য ও হিন্দুস্থান এর বিপরীতে পাকিস্তান দাবি করে।আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন ইংরেজরা বুঝতে পারছে নেতাজী ভারতের সৈন্যদের মধ্যে যে মনোবল চাঙ্গা করে গেছেন ভারতীয়দের প্রতি।আর তখন ইংরেজরা ভারত ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।আর নেতাজীর অবর্তমানে প্রতিটি ক্ষমতা লোভী রাজনৈতিক দল ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে বাঙালী জাতিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে টুকরো টুকরো করে দেয়।আর দেশভাগের বলি বাঙালী জাতিকে প্রতিটি দল ক্ষমতায় বসে কাঁটা ঘায়ে নুন লাগানোর জন্য বাম আমলে আশি সালে উপজাতিদের ক্ষেপিয়ে হাজার হাজার বাঙালীকে খুন করে।আর এর পর থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে বার বার আক্রান্ত হয়ে আসছে লাল সাদা গেরুয়া সব আমলেই।
এদিন তিনি আরও বলেন, আর যারা বাঙালী কে খুন ধর্ষণ বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করছে তাদের কে লাল সাদা গেরুয়া সব দলের নেতারা ভোটের স্বার্থে জামাই আদর করে চাকরি দিচ্ছে। রাজনৈতিক পদ দিচ্ছে। শুধু তাই নয় হাজার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে।আর এই জামাই আদর পেয়ে তারা বাঙালীদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রোজ শ্লোগান দিয়ে চলছে গো ব্যাক বাংলাদেশী।আর এই ব্যাপারে শাসক দল থেকে শুরু করে প্রতিটি রাজনৈতিক দল একেবারে নিশ্চুপ। স্বাধীনতার পর থেকেই এই অবিচার চলে আসছে।আজ আবার বাঙালী কে নূতন করে নাগরিকত্বের পরিচয় দিতে হবে।

