মানালি, ২৬ আগস্ট:উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। হিমাচলের মানালিতে প্রবল বর্ষণের কারণে বেয়াস নদী উপচে পড়ে, যার ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে। নদীর প্রবল স্রোতে একাধিক বাড়ি, দোকান ও একটি হোটেল ভেসে যায়। মানালি-লে হাইওয়ের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে উঠেছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বৈষ্ণো দেবী যাত্রাও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানালিতে নদীর জলোচ্ছ্বাসে একটি বহুতল হোটেল ও চারটি দোকান ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি আলু গ্রাউন্ড পর্যন্ত জলের প্রবেশ ঘটে। মানালি-লে হাইওয়ের একাধিক স্থানে ধস নামায় তা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাহাং এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি, দুটি রেস্তোরাঁ ও দুটি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
একটি ভারী মালবোঝাই ট্রাক নদীর উত্তাল স্রোতে তলিয়ে যায় এবং পরে সেটির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কুল্লু ও মানালির মধ্যে বেশ কয়েকটি রাস্তার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে।
পাটলিকুহাল এলাকায় বেয়াস নদীর জল ঢুকে পড়েছে বহু ঘরে, ডুবে গেছে একটি মাছের খামার ও একটি ফ্যাক্টরি। ব্লক ফ্যাক্টরির সমস্ত মালপত্র নদীর জলে ভেসে গিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গনভি খাদের জলও কুল্লুর একাধিক বাড়িতে ঢুকে পড়েছে।
মন্ডি জেলায় দুইটি বড় ভবন ধসে পড়েছে, যেগুলিতে প্রায় ৪০টি দোকান ছিল। যদিও আগেই ভবন দু’টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে খালি করে দেওয়া হয়েছিল, ফলে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্নৌরের কানভি গ্রামেও আকস্মিক বন্যার খবর মিলেছে।
শিমলা জেলায় অবিরাম বৃষ্টির ফলে ধস, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রশাসন সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুল মঙ্গলবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে কাংড়া, চাম্বা ও লাহৌল-স্পিতি জেলার জন্য। এই জেলাগুলিতে অতিভারী থেকে চরম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উনা, হামিরপুর, বিলাসপুর, সোলান, মান্ডি, কুল্লু এবং শিমলার জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
হিমাচলে এই বছরের বর্ষা মরসুম এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ২০ জুন থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত, রাজ্যে বন্যা, ধস ও জলে ডুবে যাওয়ার কারণে কমপক্ষে ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৮ জন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এসইওসি)।
বন্যা পরিস্থিতির জেরে রাস্তা, বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বহু এলাকা এখনও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
মানালিসহ গোটা হিমাচল প্রদেশ ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি নদীগুলির হঠাৎ প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে, কিন্তু আবহাওয়ার অবনতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য রাজ্যজুড়ে প্রার্থনা চলছে।

