ইম্ফল, ২৪ আগস্ট: মণিপুরে চলমান অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী রাজ্যজুড়ে জঙ্গি দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। গত ২২ ও ২৩ আগস্টে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক বিদ্রোহী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও মাদক কারবারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৩ আগস্ট ইম্ফল ইস্ট জেলার চিংগারেল তেজপুর, ওয়াইতোন লামখাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রেভোলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট (আরপিএফ)/পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর স্বঘোষিত প্রাইভেট ওনাম বুংগোবি মেইতেই ওরফে লাংমেই (৩১)-কে, যার কাছ থেকে একটি আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। একই দিনে থৌবাল জেলার হেইরক পার্ট-২ থেকে পিপলস রেভোলিউশনারি পার্টি অফ কাংলেইপাক (প্রেপাক-প্রো)-এর ক্যাডার খুন্ডোংবম বাইকার ওরফে খাইবা ওরফে পারি (২৩) কে এবং বিষ্ণুপুর জেলার নিংথৌখোং মাইয়াই লাইকাই থেকে কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি-নংড্রেনখোম্বা)-এর পুখরাম্বম তাংবা সিংহ (৩৪) কে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে, ২২ আগস্ট চুরাচাঁদপুর জেলার গানসিবক থিংফাইং গ্রামে অবস্থিত একটি বাড়ি থেকে ২০টি সাবানের বাক্সে রাখা অবস্থায় ২৩৬ গ্রাম ব্রাউন সুগার ও নগদ ৩.৮৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ, যার মালিক চিহ্নিত হয়েছে সিংনগাট সাব-ডিভিশনের তাংপিজোল গ্রামের বাসিন্দা চিনসিয়াথাং (৫২) হিসেবে। একই দিনে ইম্ফল ইস্টের খুরাই থাংজাম লাইকাই থেকে কেসিপি (এমএফএল)-এর সক্রিয় চাঁদাবাজ সদস্য লাইমাপোকপম শাঞ্জীত সিং ওরফে নাোবি (৫২)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার কাছ থেকে একটি মোবাইল, চাঁদার চিঠি এবং আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে।
মাদক বিরোধী অভিযানে, ২৩ আগস্ট মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ ও বিএসএফ-এর যৌথ দল রাজ্যের লিলং ও কিয়ামগেই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে, যারা মেথামফেটামিন ট্যাবলেট পাচারে যুক্ত ছিল। ধৃতরা হলেন মোঃ মুস্তাকিম (৩৯), মোঃ আরিফ (২০), মোঃ আজিত (৩২), তাঁর স্ত্রী রুহিমা (২৬), এবং মোঃ বাবয় ওরফে ইয়াহিয়া খান (৩৫)। মুস্তাকিমের বাড়ি থেকে ২.২৭ কেজি ডব্লিউওয়াই ট্যাবলেট, বাবয়ের বাড়ি থেকে ৪৫ গ্রাম ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হয়েছে ছয়টি মোবাইল ফোন, দুইটি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি, একাধিক লেজার বই, ডায়েরি ও ১২০টি খালি প্লাস্টিক কন্টেনার। পুলিশ জানিয়েছে, মুস্তাকিম একজন পুনরাবৃত্ত অপরাধী, যিনি ২০২২ সালে অসম পুলিশের হাতে গুয়াহাটিতে ২০৫টি সাবানের বাক্সে হেরোইন পাচারের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জামিনে মুক্ত হন। একইভাবে বাবয়কেও ২০২০ সালে গুয়াহাটিতে ৭,০০০ ডব্লিউওয়াই ট্যাবলেট পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ২০২৩ সালে জামিন পান।
এই সব অভিযানের পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনী রাজ্যজুড়ে সুরক্ষা ও নজরদারি বজায় রাখতে ১১৩টি চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে, যেগুলি পাহাড়ি ও উপত্যকার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। যদিও এই চেকপয়েন্টগুলিতে গত দুই দিনে কোনও নতুন গ্রেফতার হয়নি, তবুও চিরুনি তল্লাশি ও এলাকা দখলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা চলছে। NH-37 রুটে মোট ১৩০টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী গাড়িকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাশাপাশি, ২৩ আগস্ট মোটরযান আইনে ৮৪টি চ্যালান ইস্যু করে ১,৩৭,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ২২ আগস্ট তিনটি গাড়ি থেকে অবৈধ কালো ফিল্ম সরানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের দাবি, এই টানা অভিযানের ফলে রাজ্যে বিদ্রোহী কার্যকলাপ ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তদন্ত ও নজরদারি চলমান রয়েছে এবং প্রশাসন রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

