আটলান্টিক মহাসাগরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতের সমুদ্রযান অভিযানে বড় পদক্ষেপ

নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন ভারতের গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান মিশনের কথা। তার পরপরই, ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক মহাসাগরে অংশ নেন একটি আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র অভিযানে। ফ্রান্সের সামুদ্রিক গবেষণা সংস্থা আইফ্রেমার-এর তৈরি মানবচালিত সাবমেরিন নটিল-এর মাধ্যমে ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশান টেকনোলজি (এনআইওটি), চেন্নাই-র বিজ্ঞানীরা এই মিশনে অংশগ্রহণ করেন। এটি ভারতীয়দের ৫০০০ মিটার গভীর সমুদ্রে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা আগামীর ‘সমুদ্রযান’ অভিযানে কাজে লাগবে।

ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করছে একটি মানবচালিত সাবমেরিন, মৎস্য-৬০০০, যা ৬০০০ মিটার গভীরতায় তিনজন মানুষ নিয়ে ডুব দিতে পারবে। এটি ভারতের ডিপ ওশান মিশন-এর অংশ এবং এতে থাকবে গবেষণার জন্য বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যা সমুদ্রের জীবিত ও অজৈব সম্পদ অনুসন্ধানে ব্যবহার হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর কাতুপল্লির এলঅ্যান্ডটি শিপইয়ার্ডে মৎস্য-৬০০০-এর ওয়েট হারবার ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

মৎস্য-৬০০০-এ থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেমন ক্রুদের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখার বায়োভেস্ট, কগনিটিভ ডিজিটাল টুইন (জরুরি পরিস্থিতির সহায়তায়), আন্ডারওয়াটার অ্যাকুস্টিক টেলিফোন, ব্যালাস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, এবং একটি ৮০ মিমি পুরু টাইটানিয়াম অ্যালয় পার্সোনেল স্ফিয়ার যা চাপ সহনশীল ও জলগত গতিশীলতায় দক্ষ। যানটিকে শক্তি দেবে উচ্চ ঘনত্বের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি সিস্টেম। এই সাবমেরিনের টাইটানিয়াম স্ফিয়ারটি তৈরি হচ্ছে ভারতীয় প্রযুক্তিতে, ইসরো-র সহায়তায়।

এই প্রকল্পে দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান যেমন বেস ফ্রেম, প্রেসার কেস, ন্যাভিগেশন সিস্টেম, জিপিএস, ডপলার ভেলোসিটি লগ, অ্যাকুস্টিক পজিশনিং এবং কমিউনিকেশন টেকনোলজি যৌথভাবে তৈরি হচ্ছে ডিআরডিও-র সহায়তায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশনের সাফল্য ভারতের জন্য সামুদ্রিক গবেষণায় বৈশ্বিক নেতৃত্বের দিক খুলে দেবে। গভীর সমুদ্রের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে।