সীমান্ত এলাকায় গবাদি পশু চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য, বিএসএফের ভূমিকায় ক্ষোভ

সাব্রুম, ১৮ আগস্ট: সীমান্ত এলাকায় চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনায় বিএসএফের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় জনগণ।
সাব্রুম মহকুমার মনুঘাট এলাকার রমেন্দ্রনগরে ভারত বাংলা সীমান্তে চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, রবিবার আনুমানিক রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে বাংলাদেশি ডাকাত দল আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় দুই পরিবার থেকে দুটি পূর্ণবয়স্ক গরু চুরি করে নিয়ে যায়। গরুগুলি ছিল ওই দুই পরিবারের উপার্জনের একমাত্র উৎস।

স্থানীয় সূত্রে জানা তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান, ডাকাত দলের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে কাঁটাতার ভেঙে প্রবেশ করে গৃহস্থালির উঠোন থেকে গরুগুলিকে গলার দড়ি কেটে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফেনী নদীর খরস্রোতা ও বর্ষাকালের প্রবল জলে পার হয়ে গরুগুলিকে বাংলাদেশে পাচার করে দেয় তারা। সোমবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই গ্রামজুড়ে কান্না ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— ঘটনাস্থলটি বিএসএফের ওয়াচ টাওয়ার পোস্ট থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে এবং সেখানে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে, যেখান থেকে গোটা সীমান্ত এলাকা নজরদারির আওতায় থাকার কথা। এলাকায় নিয়মিত আলোর ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতেই ডাকাত দল কীভাবে বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করল এবং আবার নির্দ্বিধায় গরু নিয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে পালাতে সক্ষম হল?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বিএসএফের কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য সিজারের খবর নেই। ১২১ নম্বর ব্যাটালিয়ানের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র জওয়ানরা সরকারি অর্থে বেতনভোগ করলেও সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখছে না বলেই অভিযোগ। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তায়, অথচ বাস্তবে বিএসএফ ডিউটির নামে উদাসীন থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির মানুষকে অসুরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখেছে।”

অন্যদিকে, গ্রামবাসীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে— যদি গরু পর্যন্ত এভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে ডাকাত দল যে কোনো সময় সীমান্ত এলাকার বাড়িঘরে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনাও ঘটাতে পারে। এলাকায় চাপে গুঞ্জন ছড়িয়েছে— এ কাজে কিছু স্থানীয় সমাজদ্রোহী যুবক জড়িত থাকতে পারে। এমনকি অনেকে দাবি করছেন, বিএসএফের গোচরে না এসে এতবড় সীমান্ত অপরাধ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, এই বিষয়ে বিএসএফের গাফিলতির জন্যই আজ সীমান্ত সুরক্ষিত নয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা।