ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট : রাশিয়ান তেল আমদানি নিয়ে ভারতকে লক্ষ্য করে সেকেন্ডারি স্যাংশনের হুমকি দিলেও, তা বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, হয়তো তাঁকে সেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে না। ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া একজন বড় তেলের গ্রাহক হারিয়েছে, সেটি ভারত। আগে তারা প্রায় ৪০ শতাংশ রাশিয়ান তেল আমদানি করত। এখন সেটা কমেছে। যদি সেকেন্ডারি স্যাংশন দিই, তবে সেটা খুবই ধ্বংসাত্মক হবে। তবে হয়তো সেটা না-ও করতে হতে পারে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এসেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের পর, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো সমাধান বা চুক্তি হয়নি। এর আগেই, গত ৭ আগস্ট, ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫% ট্যারিফ আরোপ করেন এবং বলেন, “এটা মাত্র ৮ ঘণ্টা হয়েছে। আরও অনেক সেকেন্ডারি স্যাংশন দেখতে পাবেন।” একইসঙ্গে চীনকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। ভারতের তেল আমদানি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনেই করা হয়।” ভারতের দৃষ্টিতে, তেল আমদানিতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে থাকলেও রাশিয়া থেকে আমদানি মূল্যসাশ্রয়ী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “সেকেন্ডারি স্যাংশন সাময়িকও হতে পারে, আবার অনির্দিষ্টকাল চালু থাকতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠিন হতে পারে।” এর ফলে ভারতের ব্যাংকিং, শিপিং এবং জ্বালানি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মনোভাব ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারিত্বে চাপ তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে ভারতের উচিত হবে বিকল্প কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া। তবে ট্রাম্পের “মে বি, মে বি নট” মন্তব্য পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলছে এবং আগামি দিনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

