নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট — সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে পথকুকুরদের পুনর্বাসন নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোড়ন, তখন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর জানালেন, “এই সমস্যার প্রতি একটি সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া। প্রতিটি শহরের সাধারণ নাগরিক এই সমস্যায় ভুগছেন। আমাদের মানুষদের সুরক্ষিত রাখতে হবে, তবে কুকুরদের প্রতিও মানবিক হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তা প্রায়শই সঠিকভাবে খরচ হয় না অথবা যেখানেই দরকার, সেখানে পৌঁছায় না। তার বদলে এই অর্থ সরাসরি বিশ্বাসযোগ্য পশু কল্যাণ সংস্থাগুলিকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, এনজিও ও পশু কল্যাণমূলক সংগঠনগুলিরই পশুশ্রয়াণ, ও এনিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
শশী থারুর বলেন, “আমাদের ব্যবস্থায় একটি মৌলিক ত্রুটি আছে, যা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে এক ধরনের ‘বোধগম্য হতাশা’র বহিঃপ্রকাশে পরিণত করেছে।”
গত ১১ আগস্ট, বিচারপতি জে বি পারডিওয়ালা ও আর মাহাদেবনের বেঞ্চ জানান, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে পথকুকুরের কামড়ের ঘটনা এক “চরম গুরুতর” পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব, সমস্ত পথকুকুরকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন তাঁরা।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫,০০০ কুকুরের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে। পরে তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কেউ বাধা দিলে, তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রুজু হতে পারে।
শশী থারুরের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি একদিকে যেমন মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনই পশুদের প্রতি দায়িত্ববোধও তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রস্তাব, সরকারি স্তরের উদাসীনতার বদলে সক্রিয় বেসরকারি উদ্যোগই হতে পারে এই সমস্যার টেকসই সমাধান।

