ভুবনেশ্বর, ১৩ আগস্ট : ওড়িশা সরকার রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থায় ‘হরিজন’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ১২ আগস্ট জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় এসটি ও এসসি উন্নয়ন, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগের কমিশনার-কাম-সচিব এই নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারি যোগাযোগ, নথিপত্র, জাতি শংসাপত্র, দফতরের নাম, প্রকাশনা কিংবা অন্য কোনও ক্ষেত্রেই এই শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না।
সরকার নির্দেশ দিয়েছে, ‘হরিজন’ শব্দের পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘তফসিলি জাতি’ এবং ওড়িয়া বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় ‘অনুসূচিতা জাতি’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে হবে। সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, মুখ্যসচিব এবং সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশ মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মীদের এই বিষয়ে সচেতন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে এবং পুরনো নথিপত্র আপডেট করার কথা বলা হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।
ওড়িশা মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা সমস্ত সরকারি দফতরে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালেই কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্যকে ‘হরিজন’ শব্দ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে সমাজ কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক নতুন নির্দেশিকা জারি করে এই শব্দটি জাতি শংসাপত্র ও সরকারি যোগাযোগে ব্যবহার না করার কথা জানায়। ওড়িশা বিধানসভাও ইতিমধ্যেই ‘হরিজন’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

