চাম্পাই, ১৩ আগস্ট :মিজোরামের চাম্পাই এলাকায় আসাম রাইফেলসের একটি সফল অভিযানে প্রায় ₹২.৪৮ কোটি মূল্যের অবৈধ সুপারি (এরেকা নাটস) জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ৩৫,৫৬০ কেজি ওজনের মোট ৪৬৬ বস্তা সুপারি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরে কাস্টমস প্রিভেন্টিভ ফোর্স, চাম্পাই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আসাম রাইফেলস সূত্রে জানানো হয়েছে, ১১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে চাম্পাই জেলার রুয়ানতলাং এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নজরদারি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ টহলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন অবৈধ সুপারি চিহ্নিত করে তা জব্দ করা হয়।
আসাম রাইফেলস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “গোপন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে চাম্পাই জেলার রুয়ানতলাং এলাকায় একটি সুচারু অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৪৬৬ বস্তা অবৈধ সুপারি, যার ওজন ৩৫,৫৬০ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ₹২.৪৮ কোটি, তা উদ্ধার করা হয়েছে।”
এই অভিযান আবারও আসাম রাইফেলসের তৎপরতা, বুদ্ধিমত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সুসমন্বিত কর্মপদ্ধতির নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চোরাচালানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, মণিপুরে চলতি মাসের ২ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ভারতীয় সেনার স্পিয়ার কর্পস, আসাম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ২২ জন বিদ্রোহীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড, ইম্প্রোভাইজড মর্টার, গুলি এবং যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
এক্স -এ একটি পোস্টে স্পিয়ার কর্পস জানিয়েছে, “০২ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা ও আসাম রাইফেলসের বিভিন্ন ফরমেশন এবং মণিপুর পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে, রাজ্যের পাহাড় ও উপত্যকা এলাকার বিভিন্ন জেলায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিষ্ণুপুর, চুরাচাঁদপুর, চান্ডেল, থৌবাল, ইম্ফল পূর্ব ও পশ্চিম জেলা থেকে মোট ২২ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।”
এই ধরনের অভিযানে একদিকে যেমন জঙ্গি কার্যকলাপে রাশ টানা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা সূত্র। যৌথ বাহিনীর এমন দমনমূলক পদক্ষেপ উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি দমনে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

