ভারত-চীন সম্পর্ক উষ্ণতর, সরাসরি বিমান পরিষেবা শীঘ্রই চালু হতে পারে: এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ কেন্দ্রের

কলকাতা, ১২ আগস্ট : চীন এবং ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সরাসরি বিমান পরিষেবা খুব শীঘ্রই পুনরায় চালু হতে চলেছে। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মাস থেকেই এই ফ্লাইট পরিষেবা চালু হতে পারে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো-র মতো বিমান সংস্থাগুলিকে চীনের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী ভারত-চীন সেনা সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই সরাসরি বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়। সেই সংঘর্ষের জেরে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ে এবং একাধিকবার সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা হয়। যদিও কিছু সীমান্তে সেনা অপসারণ হয়েছে, তবুও বেশ কয়েকটি এলাকা এখনো অমীমাংসিত।

এই পরিস্থিতিতে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চলতি মাসের শেষে চীনের তিয়েনজিন শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের পর এটি হতে চলেছে মোদীর প্রথম চীন সফর। চীন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা আশা করে এই সম্মেলন হবে “ঐক্য, বন্ধুত্ব এবং ফলপ্রসূ আলোচনার মঞ্চ”।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও এসসিও-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নিতে চীন সফর করেছেন। এই সমস্ত উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং আলোচনা উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

চীনগামী ফ্লাইট পুনরায় চালুর ফলে বাণিজ্যিক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত যোগাযোগও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কতটা এগোয়।