নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই : প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সোমবার লোকসভায় স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে আসা সমস্ত হামলাকে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করেছে। তিনি বলেন, ভারতের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানের নয়টি সন্ত্রাস পরিকাঠামো নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এসমস্ত অভিযানে ১০০-র বেশি জঙ্গি, প্রশিক্ষক ও তাদের হ্যান্ডলারকে নিশানা করা হয়েছে।
লোকসভায় অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার সূচনা করে রাজনাথ সিং বলেন, আমি গর্বিত যে, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি বিশেষত কনট্রাড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সরঞ্জাম পাকিস্তানের কোনও হামলা সফল হতে দেয়নি। তারা একটিও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। বরং আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অটুট ও কার্যকর। আমাদের সেনাবাহিনীর সাহস ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি জানান, ৭ মে পাকিস্তান আক্রমণ শুরু করলে ৮ মে ভারত নিখুঁতভাবে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও সেন্সর নেটওয়ার্কে আঘাত হানে। এরপর ১০ মে রাত ১:৩০ নাগাদ পাকিস্তান ড্রোন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সমন্বয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়।
রাজনাথ সিং বলেন, পশ্চিম সীমান্তে আমরা পাকিস্তানের একাধিক প্রধান সামরিক ঘাঁটি চাকলালা, সরগোধা, রফিকি, রহিম ইয়ার খান, জ্যাকোবাবাদ, সুক্কুর, ও ভলাড়ি সহ তাদের কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেম লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছি। এ অভিযানের সাহসিকতা বিশ্বের সামনে ভারতের সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, অপারেশন সিঁদুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ মিনিট সময় লাগে। সুনির্দিষ্ট যৌথ পরিকল্পনা ও নাগরিক প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করেই অভিযান চালানো হয়। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এই ফাঁকে আমি বিরোধী দলগুলিকেও অনুরোধ করব, অন্তত এখন আমাদের সেনা সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসায় হাততালি দিন, মন্তব্য করেন রাজনাথ সিং।
এদিকে, অভিযানের আলোচনা নিয়ে লোকসভায় উত্তেজনা চলে, বিরোধীদের বারবার বিক্ষোভে অধিবেশন শুরু হতে দেরি হয় ও তিনবার মুলতুবি হয়। অবশেষে দুপুর ২টোর পর আলোচনা শুরু হয়।
রাজনাথের বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত নির্যাস, পাকিস্তানের কোনো হামলা সফল হয়নি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাকিস্তানের ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও অন্তত ১০০ জঙ্গি ও হ্যান্ডলারকে টার্গেট করা হয়েছে। অভিযান পুরোটাই প্রতিরক্ষাত্মক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, নিরীহ নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে। মাত্র ২২ মিনিটেই পুরো অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন। সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য মন্ত্রী সরাসরি প্রশংসা করেছেন।
এদিকে, লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন অপারেশনের সময় ২১টি জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হলেও তা কমিয়ে মাত্র ৯টিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল? বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে গগৈ বলেন, সরকার কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল না? এত বড় হামলার পরেও চুপ করে বসে থাকা মানে জাতির নিরাপত্তাকে অবহেলা করা।
তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো ভাষণে কংগ্রেস নেতা কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান। গগৈ জিজ্ঞাসা করেন, এই মারাত্মক গোয়েন্দা ত্রুটির নৈতিক দায় কে নেবে? এই ভাষণ সংসদে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত গগৈয়ের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়নি।

