পাটনা, ১৩ জুলাই : বিহারে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অভিযানের সময় গৃহভিত্তিক সমীক্ষায় নেপাল, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন । কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর এইসব বিদেশি নাগরিকদের নাম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
২৫ জুন শুরু হওয়া এই বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের হাতে বিতরণ করা গণনাফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুলাই। এরপর ১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ১১ ধরনের নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে আধার, ইপিক বা রেশন কার্ড নেই। তবে কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি জমা দেওয়ার সময়কালেও নথি জমা দেওয়া যাবে।
গত ১০ জুলাই, বিহার এস আইআর নিয়ে একাধিক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে আধার, ইপিক ও রেশন কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়। আগামী ২৮ জুলাই ফের শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, ঠিক খসড়া তালিকা প্রকাশের কয়েকদিন আগে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, “বিহারে এস আইআর অভিযানের সময় গৃহভিত্তিক সমীক্ষায় বিএলও-রা নেপাল, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বহু নাগরিকের খোঁজ পেয়েছেন। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করা হবে না।”
শনিবার (১২ জুলাই) কমিশন জানায়, প্রায় ১০০% গণনাফর্ম মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অধিকাংশ ভোটারের কাছে ফর্ম বিতরণও শেষের দিকে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬ কোটি ৩২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪৯৭টি ফর্ম জমা পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮০.১১%।
এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন ৩৮ জন জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক এবং ৯৬৩ জন সহকারী ইআরও। তাঁদের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিহারের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক।
বিহারে আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

