জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে চার বছরের শিশু কন্যার

আগরতলা, ১২ জুলাই : পুকুরে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে চার বছরের এক শিশু কন্যার। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় কৈলাসহরের ভগবান নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শোকের ছায়া নেমে পড়েছে। তবে, চার বছরের এই শিশু কন্যার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু রহস্য রয়েছে। ঘটনার তদন্তে কৈলাসহর থানার পুলিশ।

উল্লেখ্য, কৈলাসহরের ভগবান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নং ওয়ার্ড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা পেশায় গাড়ি চালক জাকির হোসেন প্রতিদিনের মতো আজও সকালে পেশার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। জাকিরের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে জাকিরের চার বছরের শিশু কন্যার সহিত জাকিরের স্ত্রী এবং জাকিরের মা বাড়িতে ছিলেন। দুপুর বেলায় হঠাৎ করে জাকিরের স্ত্রী মোবাইলে জাকিরকে জানায় যে, চার বছরের শিশু কন্যাকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না। এই খবর শোনেই জাকির ও তার ভাই খুব দ্রুত বাড়িতে এসে চার বছরের শিশু কন্যাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ির পাশের পুকুরের জলে নেমে দুই ভাই খুঁজতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে পুকুরের জলের নীচ থেকে জাকিরের ভাই চার বছরের শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চার বছরের শিশু কন্যাকে মৃত বলে জানান।

জাকির হোসেন আরও জানান যে, মৃত চার বছরের শিশু কন্যার নাম খুশী বেগম। বিগত তিন থেকে চার বছর পূর্বে জাকিরের অপর আরেক তিন বছরের শিশু কন্যা বাড়ির পাশের একই পুকুরের জলে পড়ে মারা গিয়েছিলো বলেও জানায় জাকির। মৃত চার বছরের খুশী বেগম গ্রামের সবার কাছে খুবই আদরের ছিলো বলে জানা যায়। চার বছরের খুশী বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের মহিলারা জেলা হাসপাতালে এসে ভিড় জমাতে দেখা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করেছে। চার বছরের খুশী বেগমের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে মৃতের পরিবারের সদস্যরা নিতে চাইলেও পুলিশ মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃতদেহ নিতে দেয়নি।

পুলিশ সূত্রে এবং গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায় যে, জাকির হোসেন তিন বিয়ে করেছে। বাড়িতে জাকিরের যে স্ত্রী রয়েছে, সেই স্ত্রীর মেয়ে নয় মৃত খুশী বেগম। এবং এমনকি, বিগত তিন থেকে চার বছর পূর্বে জাকিরের অপর আরেক যে মেয়েটি পুকুরের জলে পড়ে মারা গিয়েছিলো সেই মৃত মেয়েটির মাও জাকিরের বর্তমান স্ত্রী নয় বলে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রহস্যের দাঁনা বেঁধেছে।