গুয়াহাটিতে জাপানিজ এনসেফালাইটিসে মৃত্যু ১৩ জনের, রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জোরদার

গুয়াহাটি, ৫ জুলাই: অসমে ফের বাড়ছে জাপানিজ এনসেফালাইটিসের প্রকোপ। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) এই রোগে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জিএমসিএইচ-এর উপ-সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ উজ্জ্বল কুমার শর্মা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই কামরূপ (গ্রামীণ), নলবাড়ি ও দরং জেলা থেকে এসেছেন। এ পর্যন্ত কামরূপ (গ্রামীণ) থেকে ১৪ জন, নলবাড়ি থেকে ১০ জন, দরং থেকে ৭ জন এবং কামরূপ (মেট্রো) থেকে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং ৩ জন নিজের ইচ্ছায় চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই ছেড়েছেন। বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় এই রোগের জন্য পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। মূলত জলাবদ্ধ গ্রামীণ এলাকায় কিউলেক্স মশার মাধ্যমে জাপানিজ এনসেফালাইটিস ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্যে এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৮৪০ জনেরও বেশি মানুষের। এর মধ্যে ২০১৯ সাল ছিল সবচেয়ে বিপজ্জনক— এক বছরে প্রাণ হারান ১৬১ জন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এনসেফালাইটিস ভাইরাসটি সাধারণত শুকর ও জলপাখির দেহে বহন হয় এবং সেখান থেকেই মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটে। এটি মানব থেকে মানবের মধ্যে সরাসরি ছড়ায় না, তবে আক্রান্ত হলে স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দিল্লির উত্তম নগরে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। যদিও দিল্লিতে তা প্রাদুর্ভাবের আকার নেয়নি এবং রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

বর্তমানে অসমের স্বাস্থ্য দফতর আক্রান্ত জেলাগুলিতে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং টিকাদান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে।