নয়াদিল্লি, ২ জুলাই — ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর উত্তর ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা জানিয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে বর্ষাকাল পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে এবং একের পর এক মুষলধারে বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও ক্লাউডব্রাস্টের কারণে সাধারণ জীবনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমানে পর্যন্ত ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ১০০-র বেশি মানুষ আহত এবং ২১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শতাধিক রাস্তা বন্ধ, জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত। বিশেষ করে মান্ডি জেলায় ক্লাউডব্রাস্ট ও হঠাৎ প্লাবনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতের এক ভূমিধসে এক পরিবারে দুইজন প্রাণ হারান।
রাজস্থানে বর্ষা জোরদার হয়ে উঠেছে। কোটা, উদয়পুর, চিত্তোরগড়সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে থাকায় গরম ও আর্দ্রতা থেকে স্বস্তি মিলেছে। আবহাওয়া দপ্তর বুধবার সকাল ১০:৪৫ টায় এক সতর্কবার্তা জারি করেছে, যাতে আগামী ৩ ঘণ্টায় ১০টি জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
এই জেলাগুলি হলো—ভিলওয়াড়া, চিত্তোরগড়, প্রতাপগড়, পালি, রাজসমন্দ, সিরোহি, বুন্দি, বারাঁ, কোটা ও ঝালাওয়াড়। এখানে ৫০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০টি জেলায় ইয়েলো অ্যালার্টও জারি করা হয়েছে। বর্ষার সক্রিয়তায় একদিকে কৃষকদের মুখে হাসি, অন্যদিকে শহরবাসীর গরম থেকে রেহাই।
পূর্ব রাজস্থানে বিসলপুর বাঁধ অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বাঁধে জলসঞ্চয় বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাঁধ এলাকায় ৭০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং ত্রিবেণী নদীর গেজ ২.৪০ মিটার ছুঁয়েছে। বাঁধে এপর্যন্ত মোট ২৬৭ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারত (অরুণাচল, অসম, মেঘালয়), ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, কেরল, কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কেরল ও কর্ণাটকে আগামী ৬-৭ দিন ভারী বর্ষণ চলবে বলে জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে, বিশেষ করে কোকণ, গোয়া ও মধ্য মহারাষ্ট্রে মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ে জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে—কলাবায় ৫৯২ মিমি ও সান্তাক্রুজে ৫১২ মিমি। ২-৩ জুলাইয়ের জন্য ইয়েলো ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
এই বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সময়ের চেয়ে ৯ দিন আগে—২৯ জুনের মধ্যেই গোটা ভারত জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। জুন মাসে গড়ের তুলনায় ৯% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষি ও জল সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
দিল্লি-এনসিআর-এ ২-৫ জুলাই পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও গরম ও উচ্চ হিট ইনডেক্স এখনো গ্রামীণ অঞ্চলে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজনকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভাব্য ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং যাতায়াত বিঘ্নের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

