হাজারিবাগে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রাক্তন এরিয়া কমান্ডার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

হাজারিবাগ, ২ জুলাই : ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় বুধবার ভোরে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি (টিপিসি)-র প্রাক্তন এরিয়া কমান্ডার আনিস আনসারির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের এই প্রাক্তন নেতার মৃতদেহ কেরেদারি-বুন্ডু রোড সংলগ্ন গেরুয়া নদীর ধারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

আনসারি রাঁচির বুধমু থানার অন্তর্গত মাতভে গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বুকের ওপর ২-৩টি গুলি চালানো হয়েছে। মৃতদেহটি স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বা অপরাধী দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আনসারিকে গত বছর টিপিসি সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে টিপিসি-এর জোনাল কমান্ডার অভিষেকের নামে এক প্রচারপত্র প্রকাশিত হয়, যেখানে জানানো হয় যে আনসারি ওরফে ‘অভিনাশ’-কে অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রচারণাপত্রে আনসারি ও রমেশ্বর মাহাতো ওরফে পাহাড়িকে চিহ্নিত করে বলা হয়, তারা ‘ভিকেএস তিওয়ারি গ্যাং’-এর নামে কন্ট্রাক্টর ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায় করছিল। সেই সঙ্গে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী ও অপরাধী দলের মধ্যে চলমান এলাকা দখলের লড়াই জড়িয়ে থাকতে পারে।

কেরেদারি অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে হিংসার ঘটনা বেড়েছে। গত ২৫ জুন একই থানার অধীনে ফুলেশ্বর বেদিয়া ও বৈজু বেদিয়া নামে দুই পশু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। জানা গেছে, তাঁদের কাছে ৫ লক্ষ টাকার তোলা দাবি করা হয়েছিল। পুলিশ এলাকায় টহলদারি জোরদার করেছে এবং জানিয়েছে, আনসারির হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত জোরকদমে চলছে।