মহারাষ্ট্রে কৃষক আত্মহত্যা : উত্তাল বিধানসভা, সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ বিরোধীদের, দুই দফা ওয়াকআউট

মুম্বই, ২ জুলাই: মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনায় সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বুধবার বিধানসভা থেকে দু’দফা ওয়াকআউট করল বিরোধীরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে রাজ্যে ৭৬৭ জন কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সঙ্গে সয়াবিন চাষিদের প্রতিশ্রুত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এদিন বিধানসভায় রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী মকরন্দ পাটিল জানান, আত্মহত্যাকারী কৃষকদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে জানুয়ারি-মার্চে আত্মহত্যাকারী ৭৬৭ জন কৃষকের মধ্যে ৩৭৬ জনকে ক্ষতিপূরণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে, ২০০ জনকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং ১৯৪টি মামলা এখনও তদন্তাধীন।

প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার বিধানসভায় ৯৭ নম্বর বিধির আওতায় কৃষকের আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আনেন। তিনি জানান, মাত্র তিন মাসে ৭৬৭ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০টি পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১৯৪টি ঘটনার তদন্ত এখনও বাকি। সরকার এই গুরুতর বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অধ্যক্ষ রাহুল নারওয়েকার জানান, তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর চেম্বারে ওই আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করেছেন, যদিও কৃষকের আত্মহত্যাকে তিনি উদ্বেগজনক বিষয় বলে স্বীকার করেন।

ওয়াডেট্টিওয়ারের অভিযোগ, একদিকে সরকার কৃষকদের সাহায্য করছে না, তারা বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করছেন। অন্যদিকে, সরকার পরিকাঠামো নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম দেওয়া হচ্ছে না। সয়াবিন ও তুলা চাষিরা এখনও টাকা পাননি। নির্বাচনের আগে ঋণ মাফের কথা বললেও সরকার এখন সময় নষ্ট করছে।

সাথে তিনি যোগ করেন, মহারাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ৮৬,৩০০ কোটি টাকার শক্তিপীঠ মহামার্গ প্রকল্পে ২০,০০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। তবে কৃষিঋণ মাফের জন্য কোনও তহবিল নেই, প্রশ্ন তুলেন তিনি। তাঁর ক্ষোভের সুরে বলেন, কৃষকদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে লাতুরের এক ৬৫ বছরের কৃষক অম্বাদাস পাওয়ার বলদের পরিবর্তে নিজেই নিজের গায়ে লাঙ্গল বেঁধে জমি চাষ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ওয়াডেট্টিওয়ার দাবি করেন, কৃষকদের সমস্যা নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা হওয়া উচিত।

শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক ভাস্কর যাদব বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং জানান, এই বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন কৃষকের আত্মহত্যা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। তাই অবিলম্বে খারিজ করা প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা উচিত।

অধ্যক্ষ জানান, বিষয়টি গুরুতর এবং বৃহস্পতিবার পুরো একটি দিন কৃষক আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বিরোধীদের প্রয়োজনীয় নোটিস জমা দিতে বলেন। কিন্তু বিরোধীরা সরকারের প্রতি সংবেদনহীনতা এবং আলোচনায় না আসার অভিযোগ তুলে দ্বিতীয়বার ওয়াকআউট করেন।

উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, সরকার আলোচনার ভয় পাচ্ছে না। আজকেই আলোচনায় প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি তুলে ধরছে। সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে।

এর আগে কংগ্রেস, শিবসেনা (ইউবিটি) ও এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) মিলে বিদর্ভের সয়াবিন চাষিদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তোলেছে। এনসিপি (এসপি)-র জয়ন্ত পাটিল ও রোহিত পাওয়ারের সঙ্গে ওয়াডেট্টিওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে বহু কৃষক এখনও অর্থ পাননি। বিপণনমন্ত্রী জয়কুমার রাওয়ালের উত্তর অসন্তোষজনক বলে দাবি করে বিরোধীরা এরপর প্রথম ওয়াকআউট করেন।