প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’-এ জাতির উদ্দেশ্যে বার্তা: স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক শক্তিশালী ভারতের প্রত্যয়

নয়াদিল্লি, ২৯ জুন —প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা পর্যন্ত ভারতের অগ্রগতি এখন দৃশ্যমান। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন যে, দেশের ৬৪ শতাংশেরও বেশি মানুষ বর্তমানে কোনও না কোনও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ভারত এখন ট্রাকোমা রোগ থেকে মুক্ত, যা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ ও ‘জল জীবন মিশন’-এর সফলতার প্রমাণ।
মোদী জরুরি অবস্থার ৫০ বছর উপলক্ষে বলেন, জনগণের শক্তিই প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি কতটা মজবুত। তিনি বলেন, “আপতকাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল সংবিধানকে হত্যা করার জন্য,” কিন্তু ভারতবাসী কখনও মাথা নত করেনি। তিনি জনগণকে অনুরোধ করেন, সেই সময়ের সংগ্রামীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে এবং সংবিধান রক্ষায় সদা সতর্ক থাকতে।
তিনি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এই বছর বিশাখাপত্তনমে তিন লক্ষ মানুষ একসঙ্গে যোগ অনুশীলনে অংশ নেন। আদিবাসী ছাত্রছাত্রী, নৌবাহিনীর জওয়ান, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এবারের যোগ দিবসের থিম ছিল ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’, যা ‘বাসুধৈব কুটুম্বকম্’-এর মূল ভাবনাকে সামনে আনে।
তীর্থযাত্রা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৈলাস মানসসরোবর, অমরনাথ ও জগন্নাথ রথযাত্রার মতো ধর্মীয় আয়োজন শুধু আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং সেবারও এক বিরাট উপলক্ষ। তিনি বলেন, এই সময় বহু মানুষ ভক্তদের সেবায় নিজেদের নিযুক্ত করেন—লঙ্গার, প্যাউ, মেডিকেল ক্যাম্প—সবই ভারতীয় সমাজের ঐক্য ও মানবিকতার পরিচায়ক।
আসামের বডোল্যান্ডের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বডোল্যান্ড সিইএম কাপ-এ প্রায় ৭০ হাজার খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক মেয়ে রয়েছে। এটি বোডোল্যান্ডের শান্তি, উন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাসের নতুন ছবি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, মেঘালয়ের এরি সিল্ক, যা ‘অহিংসা রেশম’ নামে পরিচিত, সম্প্রতি জিআই ট্যাগ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এটি স্থানীয় হস্তশিল্পের গর্ব এবং বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদার প্রতিফলন।
মোদী নারীদের উন্নয়নযাত্রার উদাহরণ দিতে গিয়ে তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশের নানা উদ্যোগের কথা বলেন—যেমন গিরি স্যানিটারি প্যাড, শ্রীঅন্ন থেকে তৈরি বিস্কুট যা লন্ডন পর্যন্ত যাচ্ছে, এবং কালবুর্গির জোয়ার রুটি যা এখন অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে। এই উদাহরণগুলি প্রমাণ করে, নারীরা কেবল নিজেদের নয়, বরং পুরো সমাজের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠছে।
তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের উদ্যোগের কথা বলেন, যেমন মহারাষ্ট্রের রমেশ খারমালে যিনি পরিবারসহ ৭০টি জলধারণ খাদ তৈরি করেছেন এবং গাছপালা রোপণ করে একটি অক্সিজেন পার্ক গড়ে তুলেছেন। একইভাবে, আহমেদাবাদের ‘সিন্দুর বন’ শহীদদের স্মরণে গড়ে ওঠা এক অনন্য প্রকল্প। ‘এক গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে কোটি কোটি বৃক্ষরোপণও তিনি তুলে ধরেন।
শেষে তিনি মহারাষ্ট্রের পাটোদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এই গ্রাম সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত। এখানে প্রতিটি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ হয়, বর্জ্য জল নদীতে না গিয়ে শোধন করা হয়।” তিনি বলেন, এই ধরনের ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আহ্বান জানান, নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নের এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন এবং এক নতুন, শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হোন।